কাঠমান্ডু, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জেলার নদীর তীরে বন্যার জলে ভেসে আসা মৃতদেহের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১,০০৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এনডিআরএমএ-র সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে দক্ষিণের চিতওয়ান জেলা থেকে—৩২১টি। এরপরেই রয়েছে নওয়ালপরাসি ইস্ট, যেখানে ২১৬টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।
দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও ৩,৯১৬ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নেপালি সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশ-সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মীরও নিখোঁজ হওয়ার খবর রয়েছে।
বন্যার জেরে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী উপত্যকার বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩৯ জনেরও এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি বলে জানিয়েছে এনডিআরএমএ।
আক্রান্ত জেলাগুলিতে উদ্ধার, তল্লাশি ও ত্রাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ২৭৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তল্লাশি ও মৃতদের শনাক্তকরণের কাজ চলায় হতাহতদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এনডিআরএমএ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে মোট ২১,৩১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নেপালি সেনার ৯,১৯৯ জন, নেপাল পুলিশের ৭,৯১২ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪,২০৩ জন সদস্য রয়েছেন।
পরিচয়হীন মৃতদেহগুলি শনাক্তকরণ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য ২১টি পৃথক স্থানে রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১১,৮৮৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্গত এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছতে হেলিকপ্টার-সহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে নেপালি সেনা জানিয়েছে, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, লাংটাং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, আপার ত্রিশূলী-১ এবং ত্রিশূলী-৩এ-সহ একাধিক প্রকল্পে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
বন্যার পরপরই পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাগুলি থেকে ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে নেপালি সেনা। তাঁদের মধ্যে রাসুওয়াগাড়ি থেকে ২ জন, আপার ত্রিশূলী-১ থেকে ৩৩ জন, আপার ত্রিশূলী-৩এ থেকে ২২১ জন, আপার ত্রিশূলী-৩বি থেকে ২ জন, মেইলুং থেকে ৯ জন, নুওয়াকোট সোলার পাওয়ার প্রকল্প থেকে ৪ জন, ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৩ জন এবং দেবঘাট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়।
























