নয়াদিল্লি/মুম্বই, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে প্রায় ২.০৭ কোটি ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা রাজ্যের মোট নথিভুক্ত ভোটারের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকার পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, “কোন তালিকাটি সঠিক ছিল?” তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় মহারাষ্ট্রে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯.২৯ কোটি, ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তা বেড়ে হয় ৯.৭০ কোটি। আর ২০২৬ সালের এসআইআর-এর খসড়ায় ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭.৭৮ কোটিতে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় কারচুপি করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে ‘ভোট চুরি কমিশন’ বলেও অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, যে সরকার ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে বলে তিনি মনে করেন, তারা সাধারণ মানুষের মতামত বা গণরায়কে গুরুত্ব দেয় না।
কংগ্রেস নেতা আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যবর্তী স্বল্প সময়ের মধ্যে মহারাষ্ট্রে ৩৯ লক্ষ নতুন ভোটার যুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, তখনও তিনি এটিকে ‘ভোট চুরি’ বলেছিলেন এবং এখনও একই অভিযোগ করছেন।
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের এসআইআর-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, সেখানে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯১ শতাংশের নাম—অর্থাৎ প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনের নাম—সরকারি আবেদনের পর ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, এই পুনর্বহাল প্রক্রিয়া নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার এবং সরকার পরিবর্তনের পর সম্পন্ন হয়েছিল।
এদিকে রাহুল গান্ধীর অভিযোগের পর মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এমপিসিসি) রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এসআইআর-এর আওতায় নোটিস পাওয়ার সম্ভাব্য ভোটারদের বুথভিত্তিক তালিকা অবিলম্বে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
এমপিসিসি-র অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকায় ‘সন্দেহজনক’ বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের কোনও স্পষ্ট পৃথক চিহ্ন ছাড়াই রাখা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। দলের আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হলে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) মাধ্যমে ভুলভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
এমপিসিসি-র সাধারণ সম্পাদক তথা আইনজীবী সন্দেশ কোন্ডভিলকর জানান, বিএলও-দের এখনও বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক নোটিস ও শুনানির প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়নি। নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে নোটিস পাওয়ার জন্য চিহ্নিত ভোটারদের তালিকা দ্রুত প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।



















