নয়াদিল্লি, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দিল্লি, বিহার, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, অসম-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলের দাবি, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যায় না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসের পর আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত প্রতিবাদ মিছিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও জানিয়েছে সিজেপি। দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ সামনে পড়ে রয়েছে। এফআইআর ও পুলিশের পদক্ষেপের কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া সম্ভব নয়।
সৌরভ দাসের দাবি, ২৫ জুলাই তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দেশের যুবসমাজের জন্য “বড় জয়”। ওই দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, তাঁদের মূল দাবি ছিল দুটি— নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে যেসব পরিবারের সন্তান আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং দেশজুড়ে আন্দোলনকারী যুবক-যুবতী ও ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর প্রত্যাহার করা।
দাস জানান, এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়েছে সিজেপি। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলেই একাধিক রাজ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার এবং নীট-এ মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কেন্দ্রের লিখিত আশ্বাস তাঁরা পাননি বলে জানান দাস।
তিনি আরও বলেন, নীট-সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সম্মানজনক পরিমাণ ক্ষতিপূরণ ৯০ দিনের মধ্যে দেওয়ার বিষয়টি সরকার সুপ্রিম কোর্টের সামনে জানিয়েছে। ওই অর্থ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে। আদালত এই আশ্বাস গ্রহণ করে নিজেদের নির্দেশে অন্তর্ভুক্ত করেছে, ফলে তা বিচারিক স্বীকৃতি পেয়েছে বলে দাবি করেন সিজেপি মুখপাত্র।
সৌরভ দাস বলেন, “সরকার আমাদের সমস্ত দাবি মেনে নিয়েছে। তাই ৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেট থেকে নতুন পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত নির্ধারিত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল প্রত্যাহার করছি।”



















