রায়চুর, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কর্নাটকে বিজেপি মঙ্গলবার রায়চুর জেলার লিঙ্গসুগুর থেকে ১০ দিনের ‘বল্লারি চলো’ পদযাত্রা শুরু করেছে। দলের এই আন্দোলন চলবে যতদিন না রাজ্যের কথিত “কৃষক-বিরোধী, জনবিরোধী ও দুর্নীতিগ্রস্ত” সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হচ্ছে—এমনই দাবি করেছেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি.এস. ইয়েদুরাপ্পা।
পদযাত্রার সূচনা অনুষ্ঠানে ইয়েদুরাপ্পা বলেন, ছয় কোটি কন্নড়ভাষী মানুষের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে এটি একটি “রণধ্বনি”। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্রের নেতৃত্বে এই পদযাত্রার মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দলের বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা হল বলেও তিনি জানান।
ইয়েদুরাপ্পার অভিযোগ, বর্তমান সরকার কৃষক, সাধারণ মানুষ, উন্নয়ন ও মহিলাদের স্বার্থবিরোধী এবং দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে। তিনি বলেন, “ক্ষমতার দম্ভে থাকা এই সরকারকে সরানো না পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।” কৃষকদের সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রার উদ্বোধন করা হয়।
ইয়েদুরাপ্পা স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনও নির্বাচনী সভা নয়, বরং কথিত দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে সরানোর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামের সূচনা। মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লি গিয়ে “রাহুল গান্ধীর পা ধরতে” হয়। ইয়েদুরাপ্পা প্রশ্ন করেন, “আপনি কি সত্যিই মুখ্যমন্ত্রী? এতে কি মুখ্যমন্ত্রীর পদের মর্যাদা বজায় থাকে?”
বিজেপির সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুধাকর রেড্ডি অভিযোগ করেন, কর্নাটক সরকার দলিত, কৃষক, তফসিলি উপজাতি ও মহিলাদের বিরোধী এবং অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই বলেন, কর্নাটকের বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি ধারাবাহিকভাবে একাধিক আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছে। তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ শেট্টার বলেন, ডি.কে. শিবকুমারের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সতর্ক করতেই বিজেপি এই পদযাত্রার আয়োজন করেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী বি. নাগেন্দ্রের পদত্যাগের পিছনে বিজেপির আন্দোলনের ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় শিবকুমার, সিদ্ধারামাইয়া ও হাইকমান্ড—এই তিনটি গোষ্ঠী রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শেট্টার।
বিধান পরিষদের বিরোধী দলনেতা আর. অশোক অভিযোগ করেন, সিদ্ধারামাইয়া সরকার মানুষকে “লুট” করেছিল, আর শিবকুমারের সরকার কর বাড়িয়ে মানুষের পকেট কাটছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের ১৭৫টি তালুক খরার কবলে পড়লেও সরকার মাত্র ১০১টি তালুককে খরাপ্রবণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাকি তালুকগুলিকেও খরাপ্রবণ ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।
বিধান পরিষদের বিরোধী দলনেতা চালাভাদি নারায়ণস্বামী ১০ দিনের এই পদযাত্রাকে জনগণের আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেন। কেন্দ্রের দেওয়া অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী গোবিন্দ কারজোল বলেন, কথিত অপশাসনের বিরুদ্ধে বিজেপি লড়াই করছে। প্রাক্তন মন্ত্রী বি. শ্রীরামুলু অভিযোগ করেন, সরকার “প্রাসাদ থেকে” রাজ্য পরিচালনা করছে এবং সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে। তাঁর আরও অভিযোগ, দুর্নীতি বেড়েছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে এবং খরার কারণে কৃষকরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রাক্তন মন্ত্রী সি.টি. রবি বলেন, খরা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষক ও সাধারণ মানুষ সমস্যায় রয়েছেন। বি. নাগেন্দ্রের পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ভাল্মীকি কর্পোরেশনে কথিত দুর্নীতির যে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, তা এখনও সরকারি কোষাগারে ফেরত আসেনি।
প্রাক্তন মন্ত্রী জনার্ধন রেড্ডি বলেন, লিঙ্গসুগুর থেকে বিজেপির পদযাত্রা শুরু হওয়া ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তিনি নাভালি জলাধার নির্মাণের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান এবং ২০২৮ সালে বিজেপি ফের কর্নাটকে ক্ষমতায় ফিরবে বলে দাবি করেন।
বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পি. রাজীব অভিযোগ করেন, খরাপ্রবণ এলাকা ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং ত্রাণ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি। বিধায়ক মানাপ্পা বাজ্জাল জানান, লিঙ্গসুগুর থেকে বল্লারি পর্যন্ত এই পদযাত্রার মাধ্যমে সরকারের কথিত অনিয়ম, কেলেঙ্কারি ও ব্যর্থতার বিষয়গুলি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
(আইএএনএস)



















