বিশকেক, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই ‘কৌশলগত সম্পদ’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের বিশকেকে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সন্ত্রাসে অর্থায়ন, নিয়োগ, মৌলবাদে উসকানি এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়—পুরো ব্যবস্থাটিই ধ্বংস করার আহ্বান জানান।
এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিষদের ২৬তম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ এখনও মানবতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এই লড়াইয়ে শুধুমাত্র হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিকতা যথেষ্ট নয়। সন্ত্রাসে অর্থের জোগান, সন্ত্রাসী নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের গোটা পরিকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।
তিনি বলেন, “এই গুরুতর বিষয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের কোনও জায়গা থাকতে পারে না।” যে দেশগুলি নিজেদের নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহায়তা দেয়, তাদের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে সন্ত্রাসবাদ কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না।
ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মোদি বলেন, সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাতের সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে করতে হবে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর প্রভাব গোটা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর পড়ছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির উপর বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
মাদক পাচারকেও তরুণ প্রজন্ম এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন মোদি। নিরাপত্তা হুমকি, সংগঠিত অপরাধ, তথ্য নিরাপত্তা এবং মাদক পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসসিও-র আওতায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন কেন্দ্রকে স্বাগত জানিয়ে তিনি এগুলিকে কার্যকর সমন্বয় এবং দ্রুত পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বাজারগুলিকে সংযুক্ত করা, বাণিজ্য সহজ করা এবং উন্নয়নের নতুন পথ খুলে দেওয়ার সব উদ্যোগকে সমর্থন করে। তবে এই ধরনের যোগাযোগ প্রকল্পে সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটিই এসসিও সনদের মূল চেতনা বলেও জানান তিনি।
আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে উল্লেখ করে মোদি বলেন, সড়ক, রেল ও বিমানপথের পাশাপাশি কাস্টমস প্রক্রিয়া সরল করা, ডিজিটাল নথিপত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
এসসিও-কে ঘিরে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির তিনটি মূল স্তম্ভ—নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং সুযোগ—বলেই উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসসিও-র সহযোগিতা শুধু সরকারকেন্দ্রিক নয়, জনকেন্দ্রিক হওয়া উচিত।
যুব সমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভারতের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মোদি। এর মধ্যে রয়েছে স্টার্ট-আপ ফোরাম, ইয়ং অথরস কনক্লেভ এবং ইয়ং সায়েন্টিস্টস ফোরাম। গত বছর ভারত এসসিও সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ ফোরামের প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও জানান তিনি। চলতি বছর ভারতে ওই ফোরামের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এসসিও-তে বর্তমানে ১০টি সদস্য দেশ রয়েছে—বেলারুশ, ভারত, ইরান, কাজাখস্তান, চিন, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। এছাড়া আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র এবং আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, মিশর, কম্বোডিয়া, কাতার, কুয়েত, লাওস, মালদ্বীপ, মায়ানমার, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, তুরস্ক ও শ্রীলঙ্কা সংলাপের অংশীদার হিসেবে রয়েছে।
—আইএএনএস



















