অ্যাশভিল, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে কাস্টমস ও ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে আরও একাধিক সংস্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। আমদানির ক্ষেত্রে ঝুঁকিভিত্তিক পণ্য যাচাই, স্বয়ংক্রিয় ছাড়পত্র ব্যবস্থা এবং দেশের ব্যাঙ্কিং খাতের ভবিষ্যৎ ভূমিকা পর্যালোচনার জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
জি২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে। এবার কাস্টমস ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, “প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর নিয়ে আমরা বেশ কিছু কাজ করেছি। কাস্টমসের ক্ষেত্রেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে আরও করতে হবে।”
আমদানিকৃত পণ্য ভারতীয় বন্দরে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে ছাড় করার লক্ষ্যে নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্ক্যানার ব্যবহার করে শুধুমাত্র উচ্চঝুঁকির আমদানিকারকদের পণ্য পরীক্ষা করা হবে। অন্যান্য পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাড়পত্র পাবে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি বন্দরে পণ্য জটও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সীতারামন বলেন, “আমরা স্ক্যানার নিয়ে আসার চেষ্টা করছি এবং শুধুমাত্র উচ্চঝুঁকির আমদানিকারকদের সেগুলির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। বাকিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাড় করা যেতে পারে।” তবে স্ক্যানার চালু বা স্বয়ংক্রিয় ছাড়পত্র ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি জানাননি।
ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনে দেশের ব্যাঙ্কিং খাতের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, তা পর্যালোচনা করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানান তিনি। তবে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি সীতারামন।
সরকারের বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত করতে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কেন্দ্র সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
নির্মলা সীতারামন বলেন, বহু রাজ্য ব্যবসা করা সহজ করতে কেন্দ্রের উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে। নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কমপ্লায়েন্সের বোঝা কমাতে আইন সংস্কার, নিয়মকানুন সরলীকরণ এবং অপ্রচলিত আইন বাতিল করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ১,০০০-এরও বেশি আইন বাতিল এবং প্রায় ৪০ হাজার নিয়মকানুন সরল করা হয়েছে।
শিল্পমহল, ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার পাশাপাশি ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থার প্রতিফলন বিদেশি আমানত এবং বিদেশে থাকা ভারতীয়দের বিনিয়োগের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সীতারামন। তাঁর মতে, দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর আস্থাই এই প্রবণতার ইতিবাচক দিক তুলে ধরছে।
এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.২ শতাংশ, আর্থিক ও পেশাদারি পরিষেবা ক্ষেত্র বেড়েছে ১২.১ শতাংশ।
ছোট ও মাঝারি ব্যবসার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রেও ইউপিআই, এনপিসিআই-এর বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং কিউআর-কোড ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিভিন্ন সরকারি দফতর ও আর্থিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সংস্কার ভারতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী ভিতকে আরও স্পষ্ট করেছে।
—আইএএনএস



















