চন্দ্রপুর (মহারাষ্ট্র), ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কুসংস্কার ও মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার অভিযোগের মধ্যেই মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলায় এক মহিলাকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্বামীর বারবার অসুস্থতা কাটাতে ‘গ্রহদোষ’ দূর করার আচার পালনের নামে ২৭ বছর বয়সি এক বিবাহিত মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চন্দ্রপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঈশ্বর কাটকাড়ে জানান, চিমুর তহশিলের ভিসি থানার অন্তর্গত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার স্বামী বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা এর জন্য ‘গ্রহদোষ’-কে দায়ী করেন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী জন্মছকে গ্রহের প্রতিকূল অবস্থান বা প্রভাবকে ‘গ্রহদোষ’ বলা হয়।
এরপর পরিবারটি শুভম লাতারি খাঙ্গার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। সে নিজেকে জগন্নাথ মহারাজ ভদ্রভেশ মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত ‘মহারাজ’ বলে পরিচয় দিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, গত ৩০ আগস্ট খাঙ্গার তার দুই সহযোগী সচিন মোদক ও তেজস ওয়াকাটের সঙ্গে ওই মহিলার বাড়িতে পুজো করতে যায়। পুজোর সময় প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী আনতে হবে বলে মহিলার স্বামীকে বাড়ির বাইরে পাঠানো হয়। এরপর মহিলা একা থাকার সুযোগে খাঙ্গার তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাটকাড়ে জানান, মহিলার অভিযোগ পাওয়ার পরই ভিসি থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। মূল অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সি শুভম লাতারি খাঙ্গারের পাশাপাশি সচিন মোদক ও তেজস ওয়াকাটেকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৪(১), ৩৫১(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিসি থানার পুলিশ পরিদর্শক মঙ্গেশ ভোগালে ঘটনার তদন্ত করছেন। তিন অভিযুক্তই বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনা ফের কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসের অপব্যবহার এবং নিজেকে আধ্যাত্মিক চিকিৎসক বা ধর্মীয় গুরু হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
এদিকে, মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায় পৃথক একটি মামলায় ২০২১ সালে ডাহানু তহশিলে ৯ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে গত ৮ আগস্ট এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আদালত।
—আইএএনএস



















