আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর: শহরের উত্তর বনমালীপুর ভগবান ঠাকুর চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকায় একই ঘর থেকে এক প্রেমিক যুগলের পচন ধরা মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদের নাম সুমন দেববর্মা (৪০) এবং প্রিয়া দেববর্মা (৩৯)। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন দেববর্মা ও প্রিয়া দেববর্মা গত প্রায় তিন বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি সুমন দেববর্মার বোনের নজরে আসে। এরপর ঘরের পর্দা সরিয়ে ভিতরে তাকাতেই তাঁদের দেহ দেখতে পাওয়া যায় বলে সুমনের বোনের তরফে জানানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃতদেহগুলির অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, প্রায় দু’দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক সময় এবং কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সুমন দেববর্মার বোনের দাবি, দীর্ঘদিনের সম্পর্কে দু’জনের মধ্যে মাঝেমধ্যেই অশান্তি ও ঝগড়া হতো। প্রিয়া দেববর্মার আগে বিয়ে হয়েছিল বলেও পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে। সেই কারণে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে আপত্তি ছিল এবং দু’জনকে আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদের পর পুনরায় বিয়ে অথবা আলাদা থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে ওই বিষয়গুলির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে, সুমন একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে গত দুইমাস ধরে তিনি চাকুরীও হারিয়েছেন। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।



















