কলকাতা, ১৫ জুন (আইএএনএস): উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবরার একটি পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মাছ ধরার সময় জেলেদের জালে দুটি ব্যাগ উঠে আসে, যার ভিতর থেকে মোট আটটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৯৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবরার কাশীপুর এলাকার পূর্বশাপল্লির বাসিন্দা সুব্রত বিশ্বাসের একটি পুকুরে সোমবার মাছ ধরার কাজ চলছিল। জেলেরা জাল ফেলতেই প্রথমে একটি কালো রঙের ব্যাগ উঠে আসে। ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৭২ রাউন্ড কার্তুজ।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাবরা থানার পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুকুরে তল্লাশি শুরু হয়।
তল্লাশির দ্বিতীয় দফায় আরও একটি কালো ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। সেই ব্যাগে ছিল আরও চারটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২৫ রাউন্ড কার্তুজ। ফলে মোট উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় আটটি এবং গুলির সংখ্যা ৯৭।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে বহু গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও এলাকায় রাখা হয়েছে।
বারাসতের পুলিশ সুপার জে. মার্সি বলেন, “গ্রামবাসীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তল্লাশির সময় দুটি ব্যাগ থেকে মোট আটটি দেশি পিস্তল এবং ৯৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা এই অস্ত্রগুলি সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পুকুরের মালিক সুব্রত বিশ্বাসের স্ত্রী তারামণি বিশ্বাস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা পুকুরে মাছ চাষ করি। আজ মাছ ধরার জন্য জেলেদের পাঠানো হয়েছিল। পরে জানতে পারি, পুকুর থেকে অস্ত্রে ভর্তি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। প্রচুর গুলিও পাওয়া গেছে। পুকুরটির পাশ দিয়ে একটি নির্জন রাস্তা রয়েছে। কে বা কারা এই অস্ত্রগুলি ফেলে গিয়েছে, তা আমরা বলতে পারব না।”
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই অস্ত্রগুলি পুকুরে লুকিয়ে রাখা ছিল। তবে এগুলি কার এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুনও উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির মণিপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সেই পুকুরটি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন আঞ্চলিক সভাপতি রবিন দাসের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছিল। অস্ত্র উদ্ধারের পর রবিন দাস এবং তাঁর ভাই গোপাল দাস এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে জানা যায়।
হাবরার এই সাম্প্রতিক উদ্ধারকাণ্ডের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর অপরাধচক্র বা অস্ত্র পাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।



















