নয়াদিল্লি, ১৫ জুন (আইএএনএস): ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে সন্তোষজনকভাবে এগোলেও দেশের প্রবৃদ্ধির ধারাকে নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখতে হলে ধারাবাহিক উদ্ভাবন, সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিবৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
সোমবার মাইন্ডমাইন সামিট ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়; টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর নীতি এবং সুসংহত সহায়ক ব্যবস্থারও প্রয়োজন।
নির্মলা সীতারামন বলেন, “আমি জানি আমাদের দেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভালো করছে। তবে আমাদের নিয়মিতভাবে নিজেদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করতে হবে এবং কোথায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে।”
তিনি জানান, ভারতের মতো বৃহৎ ও জটিল অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে দক্ষতা বৃদ্ধি, কার্যকারিতা উন্নয়ন এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতের নীতিগত কাঠামোকেও শক্তিশালী ও অভিযোজনক্ষম রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের ধরে নেওয়া উচিত নয় যে উন্নতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে থাকবে। গতি বজায় রাখতে হলে অব্যাহত প্রচেষ্টা, উদ্ভাবন এবং সংস্কার অপরিহার্য।”
সীতারামন উল্লেখ করেন, দেশের একাধিক ক্ষেত্র ভালো ফল করলেও কিছু খাতে এখনও বিশেষ নীতিগত নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষত জটিল ও মধ্যবর্তী পণ্য এবং পরিষেবা-সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলিতে আরও সংস্কার দরকার।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কাঠামোগত সংস্কার, উন্নত বাস্তবায়ন বা নতুন নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
কোভিড-১৯ মহামারির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহামারির কিছু দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার উপর প্রভাব ফেলছে। যদিও বর্তমানে বড় ধরনের কোনও বিঘ্নের আশঙ্কা নেই।
এছাড়াও, এল নিনো প্রভাবের কারণে সম্ভাব্য দুর্বল বর্ষার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নির্মলা সীতারামন বলেন, “কিছু অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, আবার কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এটি সারা বছরের উদ্বেগের বিষয়। তবে এ বছর এল নিনোর কারণে খুব ভালো বর্ষা নাও হতে পারে বলে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, উদীয়মান পরিস্থিতির উপর সরকার নিবিড় নজর রাখবে এবং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



















