নয়াদিল্লি, ৩১ মে (আইএএনএস): দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে গ্রীষ্মকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে ঐতিহ্যবাহী পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত-এর ১৩৪তম পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলেই তীব্র গরম, প্রখর রোদ এবং লু বইছে। এই সময় নিজের স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি নাগরিকদের পর্যাপ্ত জল পান করা, রোদে বের হলে সতর্ক থাকা এবং সরকারের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে গরমের মোকাবিলার উপায় অনেক সময় রান্নাঘরেই খুঁজে পাওয়া যায়। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের স্বাদ ও ধরনও বদলে যায়। কোথাও মাটির কলসিতে জল রাখা হয়, কোথাও দই পাতানো হয়, আবার কোথাও কাঁচা আম সেদ্ধ করে তৈরি হয় নানা ধরনের পানীয়।”
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন পানীয়গুলির উল্লেখ করে তিনি বলেন, “উত্তর ভারতে কাঁচা আমের স্বাদযুক্ত আমপান্না গরম থেকে স্বস্তি দেয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় বড় গ্লাসভর্তি লস্যি খুব জনপ্রিয়। রাজস্থান ও গুজরাতে ছাছ বা মঠা প্রায় প্রতিটি খাবারের অংশ। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে সাট্টু শরবত পেট ভরায় এবং শক্তিও জোগায়। কোকণ অঞ্চল ও গোয়ায় কোকুম শরবত ও সোল কড়ি বিশেষ জনপ্রিয়।”
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ ভারতে পানাকাম, নীর মোর ও সাম্বারম এবং ওডিশায় বেলা পান্না অত্যন্ত জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন পানীয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই পানীয়গুলি শুধু খাবার বা পানীয় নয়, এগুলি ভারতের বিভিন্ন সংস্কৃতির ঐতিহ্যের অংশ। একই সঙ্গে এগুলি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর চেতনাকেও তুলে ধরে।”
তিনি আরও বলেন, “এই পানীয়গুলির বেশিরভাগই আমাদের ঘরোয়া রান্নাঘর ও কৃষিজ পণ্য থেকে এসেছে। এগুলির পিছনে কোনও বড় ব্র্যান্ড নেই, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গ্রীষ্মকালে আপনারাও এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী পানীয় উপভোগ করুন।”
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশীয় খাদ্যসংস্কৃতি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, বিশেষ করে যখন দেশের বিভিন্ন অংশে তাপপ্রবাহের প্রকোপ বাড়ছে।



















