আগরতলা, ২০ মে: রাজ্যের সার্বিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার করার জন্য আজ সচিবালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টাস্ক মনিটরিং সিস্টেম-এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অপরাধ এবং মাদকের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার আপোষ করা হবে না। রাজ্যে ড্রাগসের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে ধর্মনগর, কুমারঘাট ও বিলোনীয়া হাসপাতালের পরিষেবা, পরিকাঠামো ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মিজেলস পরিস্থিতি ও টিকাকরণ কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন এবং এইডস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। সিপাহীজলা জেলার এক দিব্যাঙ্গ মেয়ের এইমসে চিকিৎসার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হোমগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেন। পাশাপাশি বিশ্রামগঞ্জে নির্মীয়মান রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।
পানীয়জলের সমস্যা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খরার মরশুমে কোথাও যাতে জল সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে জল জীবন মিশনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগতমান বজায় রেখে সম্পন্ন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী পাথর বোঝাই যানবাহন চলাচলের উপর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেন। বিভিন্ন বেইলি ব্রিজের সংস্কার, জাতীয় সড়কের নির্মাণ ও সংস্কার কাজে স্বচ্ছতা ও গুণমান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন করা এবং বর্ষার মরশুমে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট দ্রুত সংস্কারের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে সময় মতো আবর্জনা অপসারণ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ এবং জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী উদয়পুরের মাতাবাড়ি মন্দির ও সংলগ্ন এলাকার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ভারপ্রাপ্ত সচিব অপূর্ব রায়, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, সচিব অভিষেক সিং, সচিব পি. কে. গোয়েল, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিব ও পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রাজ্যের ৮টি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য আধিকারিকগণ ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।


















