ভুবনেশ্বর, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): সংসদে পাস হওয়া খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন বা এমএমডিআর আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনীর তীব্র বিরোধিতা করে ওড়িশার অধিকার রক্ষায় রাজ্যের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজু জনতা দল (বিজেডি)-এর সভাপতি নবীন পট্টনায়ক।
বুধবার এক ভিডিও বার্তায় পট্টনায়ক বলেন, বিজেডি নেতৃত্বাধীন সরকার ২৪ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন খনি থেকে সংগৃহীত করের রাজস্ব ওড়িশার দ্রুত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিজেডি প্রধান বলেন, ২০০০ সালে বিজেডি ক্ষমতায় আসার সময় রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ ছিল এবং সরকারকে ওভারড্রাফটের ওপর নির্ভর করতে হতো। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে বিজেডি সরকার রাজ্যের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব উদ্বৃত্ত রেখে গিয়েছিল। শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনার ফলেই দ্রুত উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, পরিকাঠামো বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
পট্টনায়ক বলেন, “এই দ্রুত উন্নয়নে খনি কর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু আজ ওড়িশার অর্থনীতি বিপদের মুখে। সম্প্রতি সংসদে এমএমডিআর আইনে একটি সংশোধনী পাস হয়েছে। এটি ওড়িশা এবং রাজ্যের মানুষের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনবে।”
কেন্দ্র কোনও আলোচনা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পাস করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যসভায় একমাত্র বিজেডি সাংসদরাই বিলটির বিরোধিতা করেছেন। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে লেখা চিঠির প্রসঙ্গ তুলে ধরে পট্টনায়ক সর্বদলীয় বৈঠক এবং বিষয়টি নিয়ে ওড়িশা বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান।
তিনি বলেন, “ওড়িশা ও ওড়িশার মানুষের স্বার্থের চেয়ে বড় কেউ নয়। আজ আমাদের মাটি ও রাজ্যের স্বার্থে একজোট হতে হবে।”
এমএমডিআর সংশোধনী বিল রাজ্যের খনিজ সম্পদের ওপর ওড়িশার অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন পট্টনায়ক। তাঁর দাবি, ক্রোমাইট, বক্সাইট, লৌহ আকরিক, কয়লা এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে ওড়িশার মজুত সবচেয়ে বেশি।
বিজেডি সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের নিজেদের খনি থেকে মানুষের কল্যাণে কর সংগ্রহ করতে পারব না কেন? আমাদের মানুষ ধুলো ও দূষণের শিকার হবেন, অথচ দিল্লির সরকার আমাদের সম্পদ থেকে সমৃদ্ধ হবে—এটা আমরা হতে দেব না।”
ওড়িশার ২০ জন বিজেপি সাংসদ এই বিষয়ে যথেষ্ট আওয়াজ তোলেননি বলেও অভিযোগ করেন পট্টনায়ক। তাঁর দাবি, সংশোধিত বিলের ফলে ওড়িশার কর-সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে এবং রাজ্য প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা হারাতে পারে। এই অর্থ স্কুল, হাসপাতাল, পরিকাঠামো এবং কৃষক ও দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করা যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এত বড় আর্থিক ক্ষতি ওড়িশা বহন করতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পট্টনায়ক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
পট্টনায়ক বলেন, “এই জমি আমাদের। এই খনিগুলিও আমাদের। আমাদের অধিকার রক্ষায় আমি লড়াই করব। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ওড়িশা ও ওড়িশার মানুষের অধিকারের জন্য আমার লড়াই চলবে। এই লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার জন্য আমি ওড়িশার মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, রাজ্যে কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও এমএমডিআর আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনী প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।



















