ভোপাল, ৩ অক্টোবর (আইএএনএস): ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রদেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার ভোপালে এক রাজ্যস্তরের পশুপালক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, এই লক্ষ্য পূরণে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করবেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে মধ্যপ্রদেশের সাধারণ মানুষকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান শাহ। বিশেষ করে সন্তানদের মাদকের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে মায়েদের সতর্ক থাকার আবেদন করেন তিনি।
শাহ বলেন, “আমরা মধ্যপ্রদেশকে মাদকমুক্ত করব। প্রতিটি মাকে আশ্বস্ত করতে চাই, ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর মধ্যপ্রদেশে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য মাদকের কোনও জায়গা থাকবে না।” এই লক্ষ্য পূরণে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরির কথাও জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক পাচারকারী চক্র ধ্বংস করার পাশাপাশি প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দিকে কেন্দ্র গুরুত্ব দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিন ভোপালে নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন শাহ। তিনি বলেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং সংশ্লিষ্ট নতুন আইন দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনবে।
শাহের দাবি, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এফআইআর দায়েরের তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইনগুলি ঔপনিবেশিক সরকার ও প্রশাসনকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল। নতুন আইনগুলি ভারতীয় নাগরিকদের মর্যাদা, সম্পত্তি ও শারীরিক নিরাপত্তা রক্ষার দিকে গুরুত্ব দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম যথাক্রমে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে।



















