কলকাতা, 03 অক্টোবর (হি.স.) : জুট মিলগুলির পিএফ ট্রাস্টের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব মিল ইপিএফও-র কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ভালো স্থান পেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেই পরে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬-এ ১৬টি জুট মিলের পিএফ ট্রাস্টের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইপিএফও-ও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিল। মিল কর্তৃপক্ষের একাংশ আদালতের দ্বারস্থ হয়। নর্থ ব্রুক জুট মিলের ক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে দেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইপিএফও-র কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের নথিতে বওরিয়া জুট মিলের ভালো পারফরম্যান্সের উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মূল্যায়নে বওরিয়া ৫৪৫ নম্বর পেয়েছিল। পুরনো মূল্যায়নের নথিতেও বওরিয়া ও গঙ্গেজ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির পারফরম্যান্সের উল্লেখ রয়েছে। অথচ পরবর্তীকালে এই দুই মিলের পিএফ ট্রাস্টের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
যে ১৬টি মিলের লাইসেন্স বাতিলের কথা সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে জগদ্দল, কাঁকিনাড়া, অ্যাংলো ইন্ডিয়া, প্রবর্তক, ইস্টার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং, ডালহৌসি, গঙ্গেজ, হেস্টিংস, গ্লস্টার, বালি, লাডলো, টেপকন, বওরিয়া, এআই চম্পদানি, বিড়লা কর্পোরেশন (সুরাহ মিল) এবং নিউ সেন্ট্রাল জুট মিল।
জুট শিল্পে পিএফ সংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়ে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের ওপর। ফলে লাইসেন্স বাতিলের ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নর্থ ব্রুকের রায়ের পর এখন প্রশ্ন, একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা বাকি ১৬টি মিলের ক্ষেত্রে কী হবে। বিশেষ করে ইপিএফও-র নিজস্ব মূল্যায়নে ভালো ফল করা কোনও মিলের পিএফ ট্রাস্টের লাইসেন্স পরবর্তীকালে কেন বাতিল করা হল, তার ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জুট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং কর্মসংস্থান রক্ষা নতুন রাজ্য সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে পিএফ ট্রাস্ট সংক্রান্ত বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি শ্রমিক ও জুট শিল্প উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।



















