ইম্ফল, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): ২০২৭ সালের জনগণনার আগে মণিপুরে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি হালনাগাদের দাবিতে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার রাজ্যব্যাপী বন্ধের দ্বিতীয় দিনেও বুধবার ইম্ফল উপত্যকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। ‘ক্যাম্পেন ফর জাস্ট অ্যান্ড ফেয়ার ডিলিমিটেশন’-এর ডাকা এই বন্ধ সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে এবং বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলার কথা।
বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠন, প্রভাবশালী মহিলা মশালবাহক-সহ মহিলা সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের একাধিক সংগঠন এই বন্ধকে সমর্থন জানিয়েছে।
বুধবার দ্বিতীয় দিনেও মণিপুরের উপত্যকার ছয় জেলায় অধিকাংশ দোকান-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। রাস্তায় গণপরিবহণের যানবাহনও দেখা যায়নি। ইম্ফল উপত্যকার বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে।
উপত্যকার ছয় জেলা হল ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, থৌবাল, বিষ্ণুপুর, কাকচিং এবং জিরিবাম। তবে পাহাড়ি জেলাগুলিতে, যার মধ্যে চূড়াচাঁদপুর ও কাংপোকপি রয়েছে, এই বন্ধের তেমন প্রভাব পড়েনি।
ইম্ফল পূর্ব ও পশ্চিম জেলার বিভিন্ন এলাকায় জেএফডি কর্মী এবং বন্ধ সমর্থকরা বাঁশের খুঁটি ও পাথরের বোল্ডার দিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। কোথাও কোথাও টায়ারও পোড়ানো হয়। বিক্ষোভকারীরা ‘এনআরসি নেই, আদমশুমারিও নেই’-এর মতো স্লোগান লেখা পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ দেখান।
২০২৭ সালের জনগণনার আগে মণিপুরে এনআরসি কার্যকর করার দাবিতে ছাত্ররা ইম্ফলে জনগণনা পরিচালন দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।
এদিকে, ২০২৭ সালের জনগণনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৭ আগস্ট থেকে স্ব-গণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মূল হাউসলিস্টিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
মণিপুর সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যে এনআরসি হালনাগাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছে। শীঘ্রই মণিপুরের বিধায়কদের একটি দল নয়াদিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে নির্দেশনা নেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যে এনআরসি হালনাগাদের প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানাতে পারে।
মণিপুর সরকারের মুখপাত্র নিত্যাইপাত চুথেক এবং বিজেপির বর্তমান বিধায়ক সাপম রঞ্জন সিং মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, এনআরসি ও জনগণনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে এবং মানুষের উদ্বেগ দূর করার ক্ষেত্রে মণিপুরের জনগণের পাশে রয়েছে।
প্রাক্তন মন্ত্রী সাপম রঞ্জন সিং জানান, মণিপুর বিধানসভা ২০২২ সালের ৫ আগস্ট রাজ্যে এনআরসি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করেছিল। পরে ২০২৪ সালের ১ মার্চ বিধানসভায় সেই প্রস্তাব পুনরায় অনুমোদিত হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারের উদ্বেগের কারণ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে চিঠিপত্রের মাধ্যমে লাগাতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনআরসি হালনাগাদের বিষয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে নির্দেশনা নিতে এবং প্রক্রিয়াটি শুরু করার দাবি জানাতে বিধায়কদের একটি দল নয়াদিল্লি যাবে বলেও জানান তিনি।
সাপম রঞ্জন সিং বলেন, রাজনৈতিক দল, সম্প্রদায় বা অন্য কোনও বিভেদকে পাশে রেখে সম্মিলিতভাবে বিষয়টির সমাধান করা উচিত। কারণ এটি রাজ্য এবং তার মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের জনগণনার আগে এনআরসি হালনাগাদের যে দাবি নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং মণিপুরের সাধারণ মানুষ জানাচ্ছেন, সরকার তা স্বীকার করে। কেন্দ্রের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে এবং দাবিটি বিবেচিত হয় তা নিশ্চিত করতে সবরকম চেষ্টা করা হবে।
এদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর ইম্ফলে ফিরে এসে জানান, মণিপুরে এনআরসি হালনাগাদের বিষয়ে কেন্দ্র ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে।
______


















