নয়াদিল্লি, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): একের পর এক নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধীরা আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে এবং সেই হতাশা সংসদের অধিবেশনে হট্টগোলের মাধ্যমে প্রকাশ করছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বুধবার আইএএনএস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের সংসদের সদ্য সমাপ্ত বাদল অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেন।
রিজিজু বলেন, “বিরোধীরা বর্তমানে কিছুটা বিভক্ত এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছে। নির্বাচনে জিততে ব্যর্থ হলে তারা সংসদে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করে।”
তিনি আরও বলেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী চাইলে বিরোধী সাংসদরা সংসদে হট্টগোল করতেন না। রিজিজুর দাবি, সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক প্রচেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “আমি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছি এবং ফোনেও কথা বলেছি। বিরোধী দলনেতা ও প্রবীণ নেতা হিসেবে আমি তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করি। কিন্তু সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। রাহুল গান্ধী চাইলে কংগ্রেস সাংসদরা হাউসের কার্যক্রম চলাকালীন গালিগালাজ, স্লোগান ও হট্টগোল করতেন না। কংগ্রেসে একমাত্র রাহুল গান্ধীই তাঁর সাংসদদের আচরণ সংশোধন করতে পারেন।”
বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিলেন বলে বিরোধীদের অভিযোগও খারিজ করেন রিজিজু। তিনি দাবি করেন, অমিত শাহ প্রতিদিন সংসদে আসতেন এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংসদ চত্বরে উপস্থিত থাকতেন।
রিজিজু বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাদল অধিবেশন চলাকালীন প্রতিদিন সংসদে আসতেন এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে থাকতেন। বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যে তিনি কীভাবে কার্যক্রমে যেতে পারেন? বিরোধীরা শুধু ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে।”
রিজিজুর এই মন্তব্যের মাধ্যমে সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের প্রতিবাদ, হট্টগোল এবং সরকার-বিরোধী রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চলমান চাপানউতোর আরও স্পষ্ট হয়েছে।



















