রাঁচি, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডে একাধিক ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন-এর নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী এবং নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন তীব্র করেছেন।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে শত শত সফল প্রার্থী এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী রাঁচির প্রজেক্ট ভবনের মূল ফটকের সামনে জড়ো হন। এই ভবনেই ঝাড়খণ্ড সচিবালয় অবস্থিত। মঙ্গলবার রাতভর প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও বিক্ষোভকারীরা সেখানে অবস্থান করেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একদল প্রার্থী নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ব্যারিকেড সরিয়ে প্রজেক্ট ভবনের চত্বরে ঢুকে পড়েন। তাঁরা ‘ইনসাফ দো ইয়া ফাঁসি’ (ন্যায় দাও, না হলে ফাঁসি) স্লোগান দিতে থাকেন এবং সরকারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারের সিদ্ধান্ত তাঁদের চাকরি, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আন্দোলনরত প্রার্থীদের বক্তব্য, নিয়োগ পরীক্ষায় কোথাও অনিয়ম হয়ে থাকলে নির্দিষ্ট ঘটনাগুলির তদন্ত করা উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু সেই কারণে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পরীক্ষার ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়া নিয়োগ বাতিল করা ন্যায়সঙ্গত নয় বলে দাবি তাঁদের।
একাধিক সফল জেএসএসসি-সিজিএল প্রার্থী জানান, বছরের পর বছর প্রস্তুতি ও কঠোর পরিশ্রমের পর তাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কয়েকজনের দাবি, ঝাড়খণ্ড সরকারের চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁরা অন্যত্র থাকা চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন।
এখন নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে ফের কর্মহীনতার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, “গতকাল পর্যন্ত আমরা সচিবালয়ের কর্মী ছিলাম, আর আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের দোষ কী? কেউ অন্যায় করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু আমাদের চাকরি কেন কেড়ে নেওয়া হবে?”
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলির বহুস্তরীয় তদন্ত করা হোক এবং কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয় আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হোক।
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, “পরীক্ষা নিয়ে কোনও বিতর্কের কারণে এমন একজন প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা, যাঁর নিয়োগ নিয়ম মেনেই হয়েছিল, তা অন্যায়।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন সহকারীও তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাঁরা বলেন, বছরের পর বছর পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পর লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউয়ের ধাপ সম্পন্ন করে অবশেষে নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। এখন সেই নিয়োগ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তাঁরা গুরুতর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন এবং পরিবার চালানো নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর সিআইডি তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার একাধিক জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার ২২টি পরীক্ষা বাতিল করেছে, আরও ছয়টি পরীক্ষার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে এবং ১৭টি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এছাড়া ২০১৪ সাল থেকে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগও তদন্ত ও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত ছাত্ররা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বড় জয় হিসেবে দেখলেও নির্বাচিত প্রার্থী এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা এর বিরোধিতা শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য দায়ীদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে, কিন্তু স্বচ্ছভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তার মূল্য দিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রজেক্ট ভবনের বাইরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।



















