আগরতলা, ১৯ আগস্ট: ত্রিপুরার শেষ মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের ১১৮তম জন্মবার্ষিকীতে বুধবার তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা তথা রাজ পরিবারের সদস্য প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ। একইসঙ্গে শুধু মহারাজার ঐতিহ্য ও অবদান স্মরণ করাই নয়, তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করার জন্য ত্রিপুরাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আজ এক বার্তায় প্রদ্যোত জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বাইরে বের হতে পারেননি। তবে এই বিশেষ দিনে ত্রিপুরার মানুষকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মহারাজা বীর বিক্রমের মূর্তি ও প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে প্রদ্যোত বলেন, মহারাজার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু একইসঙ্গে প্রশ্ন তুলতে হবে, তাঁর দেখানো পথ ও স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে।
প্রদ্যোত মহারাজা বীর বিক্রমের আমলে ১৯৪০ সালে প্রণীত ভূমি সুরক্ষা আইনের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ওই আইনের উদ্দেশ্য ছিল সংরক্ষিত এলাকায় অ-জনজাতিদের হাতে তিপ্রাসাদের জমি চলে যাওয়া রোধ করা এবং আদিবাসী মানুষের ভূমির অধিকার সুরক্ষিত রাখা।
প্রদ্যোতের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার ত্রিপুরা ল্যান্ড রেভিনিউ কাঠামো চালু করে। পরবর্তীতে মহারাজার পরিকল্পনায় সুরক্ষিত ওই অঞ্চলই ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত হয়।
তিনি বলেন, আজ আমরা মহারাজাকে সম্মান জানাই এবং তাঁর নাম করে ভোটও চাই। কিন্তু তাঁর যে স্বপ্ন ছিল, তিপ্রাসা অঞ্চলের জমি তিপ্রাসা মানুষের হাতেই থাকবে, সেই স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। জমির স্বত্বের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রদ্যোত। তাঁর মতে, যে জমিতে মানুষ বসবাস করছেন, তার আইনি মালিকানা না থাকলে প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে মিজোরাম এবং অসম, মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জমি সংক্রান্ত সুরক্ষা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।
ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকায় জমির পাট্টা বা স্বত্বের নথি দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। প্রদ্যোতের দাবি, কোনও দরিদ্র তিপ্রাসা পরিবার যেন ভূমিহীন না থাকে, সেটাই ছিল মহারাজা বীর বিক্রমের অন্যতম স্বপ্ন।
তিনি বলেন, আমরা যদি সত্যিই মহারাজাকে সম্মান জানাতে চাই, তাহলে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে তিপ্রাসা পরিবারগুলির হাতে নথিভুক্ত জমির স্বত্ব তুলে দেওয়া এবং সেই জমির অধিকার পরবর্তী প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
রাজনৈতিক পদ-পদবির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রদ্যোত। তাঁর বক্তব্য, মন্ত্রী, বিধায়ক, এমডিসি, এক্সিকিউটিভ মেম্বার কিংবা চেয়ারম্যানরা একসময় তাঁদের পদ ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু জমির অধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
তিপ্রাসাদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে একটি “ঐক্যবদ্ধ ত্রিপুরা” গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মহারাজা বীর বিক্রমের উত্তরাধিকার শুধু অনুষ্ঠান ও শ্রদ্ধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তাঁর স্বপ্ন অনুযায়ী জমি সুরক্ষা এবং তিপ্রাসা পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা।
বার্তার শেষে প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা ত্রিপুরাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, মহারাজার জন্মদিনে তাঁর ঐতিহ্যের পাশাপাশি তাঁর চিন্তা, আদর্শ ও স্বপ্নকেও স্মরণ করতে হবে।



















