বেঙ্গালুরু, ১৬ মে (আইএএনএস) : কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ. ডি. কুমারস্বামীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করলেন, কুমারস্বামীর পরিবারই রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছে।
বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে প্রস্তাবিত বিডাদি টাউনশিপ প্রকল্প নিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবেগৌড়ার করা অভিযোগের পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দেবেগৌড়া, যিনি কুমারস্বামীর পিতা, অভিযোগ করেছিলেন যে শিবকুমার বিডাদি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থসিদ্ধি করতে চাইছেন। নাম না করেই তিনি দাবি করেন, ওই অঞ্চলে শিবকুমারের ২০ হাজার একর জমি রয়েছে।
এর পাল্টা জবাবে শিবকুমার বলেন, কুমারস্বামীর পরিবারই রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে সম্পদ গড়েছে। তাঁর ভাই পেরিফেরাল রিং রোড(পিআরআর) প্রকল্প এলাকায় মানুষকে ভয় দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করিয়েছেন।
বেঙ্গালুরুর হোরামাভু এলাকার ন্যাশনাল পাবলিক স্কুলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, কুমারস্বামী দিবাস্বপ্ন দেখেন। গতকালই তো তিনি বললেন বিডাদি টাউনশিপ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত নয়। কিন্তু প্রকল্পটির বিজ্ঞপ্তি কে জারি করেছিলেন? তিনিই করেছিলেন।
শিবকুমারের আরও অভিযোগ, রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত, তা সবাই জানে। তাঁর ভাই পিআরআর রাস্তা প্রকল্পের নামে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করেছেন। ডোড্ডা গুব্বি এবং চিক্কা গুব্বি এলাকার মানুষকে জিজ্ঞাসা করুন। তাঁরা বলবেন কীভাবে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ৭ লাখ, ৮ লাখ বা ১০ লাখ টাকায় জমি রেজিস্ট্রি করানো হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে সেই জমিগুলির মূল্য ২৫ কোটি, ৩০ কোটি এমনকি ৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদের নিয়ে মন্তব্য করার আগে তাঁদের নিজেদের দিকে তাকানো উচিত, বলেন তিনি।
খাতা রূপান্তরের জন্য দুই শতাংশ ফি নেওয়া নিয়ে কুমারস্বামীর সমালোচনারও জবাব দেন শিবকুমার। তাঁর কথায়, ওটা শুধুই তাঁর দিবাস্বপ্ন। তাঁর সরকার আর ক্ষমতায় আসবে না। কংগ্রেস সরকার এখন ক্ষমতায় রয়েছে এবং জনকল্যাণমূলক কাজ করছে। মানুষ সেই প্রকল্পগুলির সুবিধা পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তাঁর কথা বলা উচিত। একসময় তিনি মানুষকে সোনা না কেনারও পরামর্শ দিয়েছিলেন। এখন তিনি এসব বিষয়ে নীরব কেন? অন্যদের সমালোচনা করা ছাড়া তাঁর আর কোনও কাজ নেই।
নিজের সরকারের কাজের প্রসঙ্গ তুলে শিবকুমার বলেন, তাঁর আমলে গরিব মানুষের জন্য তিনি কী করেছিলেন? তিনি পানীয় জল সরবরাহও করতে পারেননি। আমি সেই কাজ করেছি। আমরা মানুষের সম্পত্তির নথি সংশোধন করছি।
বেঙ্গালুরু শহরের প্রশাসনিক উন্নতির জন্য পাঁচটি কর্পোরেশন গঠনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতারাও তাঁর কাজের প্রশংসা করছেন এবং তিনি তাঁদের পরামর্শও নিচ্ছেন।
কুমারস্বামী তাঁকে ঈর্ষাবশত আক্রমণ করছেন বলেও মন্তব্য করেন শিবকুমার। তাঁর কথায়, তিনি নিজের আমলে এমন কাজ করার সুযোগ পাননি বলেই ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া, দেবেগৌড়ার মন্তব্যেরও পাল্টা দেন তিনি। দেবেগৌড়া অভিযোগ করেছিলেন, জন্মদিনে ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বপ্ন দেখছেন শিবকুমার। এর উত্তরে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তাঁর ছেলে কী করেছিলেন, আগে সেটা মনে করুন। তারপর অন্যদের নিয়ে মন্তব্য করুন।



















