নয়াদিল্লি, ১৬ মে (আইএএনএস) : দেশে রুপো আমদানির উপর আরও কড়া নজরদারি শুরু করল কেন্দ্র সরকার। শনিবার জারি হওয়া নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক শ্রেণির রুপোকে ‘ফ্রি’ আমদানি নীতির আওতা থেকে সরিয়ে ‘রেস্ট্রিকটেড’ বা সীমাবদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধতার রুপোর বার, অপরিশোধিত রুপো, আধা-প্রক্রিয়াজাত রুপো এবং রুপোর গুঁড়ো আমদানির ক্ষেত্রে এখন থেকে আগে সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নিয়মও প্রযোজ্য থাকবে, ফলে আমদানিকারকদের জন্য আর্থিক নিয়ম মেনে চলার বাধ্যবাধকতাও আরও কঠোর হবে।
আইটিসি (এইচএস) শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী আমদানি নীতির সূচিতে সংশোধন এনে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে রুপো সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিল্প, উৎপাদন এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিস্তৃত রুপো পণ্যের উপর এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এর আগে এই সমস্ত পণ্য ‘ফ্রি’ ক্যাটেগরির আওতায় থাকায় সাধারণ নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র পেলেই সহজে আমদানি করা যেত। কিন্তু এখন থেকে বুলিয়ন মানের রুপো ও আধা-প্রক্রিয়াজাত রুপো আমদানির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অনুমতি নিতে হবে। শিল্প মহলের মতে, মূল্যবান ধাতুর আমদানি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং অতিরিক্ত আমদানি নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
সম্প্রতি দেশের আমদানি ব্যয় কমানো এবং মূল্যবান ধাতুর বাণিজ্যের উপর নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্র একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। এছাড়াও, জেমস ও জুয়েলারি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যবহৃত অ্যাডভান্স অথরাইজেশন (এএ) স্কিমে শুল্কমুক্ত সোনা আমদানির নিয়মও সম্প্রতি কঠোর করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি)।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এএ স্কিমের আওতায় প্রতি লাইসেন্সে সর্বাধিক ১০০ কেজি সোনা আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। প্রথমবার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে উৎপাদন ইউনিটের শারীরিক পরিদর্শনের পরেই অনুমোদন মিলবে। পুনরাবৃত্ত আবেদনকারীদের জন্যও আরও কড়া রপ্তানি বাধ্যবাধকতা এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের শংসাপত্রসহ বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপো আমদানির উপর এই নতুন বিধিনিষেধের ফলে মূল্যবান ধাতু বাজারে নিয়ন্ত্রক নজরদারি আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে বুলিয়ন ব্যবসায়ী, গয়না প্রস্তুতকারক ও শিল্পক্ষেত্রে রুপোর উপর নির্ভরশীল সংস্থাগুলির উপর।



















