নয়াদিল্লি, ১৬ মে (আইএএনএস) : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরকে কেন্দ্র করে শনিবার তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। বিজেপি দাবি করেছে, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা “গণতন্ত্রে অগ্রহণযোগ্য” এবং “গুন্ডার ভাষা”। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এটি বিজেপির “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার” অংশ।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এফআইআর প্রসঙ্গে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সৈয়দ শাহনওয়াজ হুসেন বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার গণতন্ত্রে কোনও স্থান নেই। এটা কোনও রাজনৈতিক নেতার ভাষা নয়, বরং একজন গুন্ডার ভাষা। বিজেপি নেত্রী শাজিয়া ইলমি বলেন, উস্কানিমূলক ও বিষাক্ত ভাষণ দেওয়া কোনও ধর্মনিরপেক্ষ অধিকারের মধ্যে পড়ে না। গণতন্ত্র বিতর্কের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, হুমকি ও ভয় দেখানোর উপর নয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি তুষ্টিকরণ, মেরুকরণ এবং মানুষের মধ্যে ভয় ছড়ানোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, এই এফআইআরের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষা পাবেন। বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খণ্ডেলওয়ালও অভিষেকের ভাষাকে “অশালীন” বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, সভ্যতার সীমা অতিক্রম করলে আইন তার নিজস্ব পথে কাজ করবে।
বিজেপির আর এক জাতীয় মুখপাত্র শেখজাদ পুনাওয়ালা অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় “খুন ও শিরশ্ছেদের মতো ঘৃণামূলক মন্তব্য” করেছেন এবং কখনও কখনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন। পুনাওয়ালার দাবি, যদি কেউ উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়, তবে তাঁকে আদালতে গিয়ে জবাব দিতেই হবে। তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক হিংসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় এই এফআইআরকে “বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে অভিষেক মন্তব্য করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বাংলায় বহু বক্তব্য রেখেছেন। নির্বাচনী উত্তাপে অনেক কথাই বলা হয়, তাই আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করিনি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই এফআইআরকে “ভুয়ো” বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান আমাদের বাকস্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে। অভিষেক যা বলেছেন, তা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই বলেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের দমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।



















