কলকাতা, ১৬ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের আগে হিংসা উসকে দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস শনিবার অভিযোগ করেছে, ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই পদক্ষেপ করেছে।
শুক্রবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ দায়ের করেন রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে নারী পাচারের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও রাজীব সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী আইএএনএস-কে বলেন, আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, “অভিযোগের সঠিক প্রকৃতি আমি জানি না। তবে যতদূর জেনেছি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হিংসা উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁদের ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে’। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি বা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।”
অরূপ চক্রবর্তী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই এমন প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের আশঙ্কা ছিল।
তাঁর কথায়, “বিজেপি সরকারে আসার পর আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শুরু হবে, সেটা প্রত্যাশিত ছিল। শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। কিন্তু আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। শুধুমাত্র বিজেপির সুবিধার্থে আইনকে ব্যবহার করা চলবে না।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজীব সরকার গত ৫ মে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে বিধাননগর পুলিশ মোট ছ’টি ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে।
অভিযোগকারী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাষায় নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন, তাতে তৃণমূল আবার ক্ষমতায় ফিরলে রাজ্যে অরাজকতা তৈরি হতে পারত।
তিনি বলেন, “সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উপর হামলার ঘটনাও ঘটতে পারত।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর অভিযোগ কোনওভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়।
উল্লেখ্য, রাজীব সরকার নিজেকে সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। অতীতে বাগুইআটি এলাকার বার ও সেখানে নাচ-গানের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে নারী পাচারের অভিযোগও উঠেছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, সামাজিক পরিবর্তনের জন্য লড়াই করলেই এ ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়।



















