পাটনা, ১৪ মে (আইএএনএস): বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব বৃহস্পতিবার কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার ছয় বছর পুরনো এক মামলায় জামিন লাভ করেছেন। তিনি পাটনার এমপি/এমএলএ আদালতে হাজির হয়ে বিচারক প্রবীণ কুমার মালব্যের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে। মামলাটি কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংগঠিত বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে দায়ের করা হয়েছিল।
তেজস্বী যাদবের দাবি, মহামারির সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরতে তিনি যে আন্দোলন করেছিলেন, তার জেরেই প্রশাসন জোরপূর্বক তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। জামিন পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে তেজস্বী বলেন, কোভিডের সময় প্রশাসন জোর করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। জন প্রতিনিধি হিসেবে আমি সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরতে আন্দোলনের আয়োজন করেছিলাম।
মহামারির সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পরিবহণের অভাবে হাজার হাজার শ্রমিককে পায়ে হেঁটে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। তেজস্বী বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব ছিল এই সমস্যাগুলি তুলে ধরা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কণ্ঠস্বর সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
প্রশাসনের সমালোচনা করে আরজেডি নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থে আওয়াজ তোলার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গণতান্ত্রিক নীতির বিরোধী। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, বিরোধী দল ভবিষ্যতেও মানুষের অধিকার ও কল্যাণের প্রশ্নে সরব থাকবে।
উল্লেখ্য, কোভিডকালীন লকডাউন, পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা এবং বিধিনিষেধ ভঙ্গের অভিযোগে সেই সময় একাধিক বিক্ষোভের জেরে বিভিন্ন ধারায় বহু এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জ্বালানি সঞ্চয়, পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং গণপরিবহণ ব্যবহারের আহ্বান নিয়েও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন তেজস্বী যাদব।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই ধরনের বার্তা আসলে সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার প্রতিফলন। নোটবন্দির সময়ও একই ধরনের আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু তার ফল কী হয়েছিল? তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেশের মানুষের কাছে এই আবেদন আসলে নীতিগত ব্যর্থতারই প্রমাণ। অতীতে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্তগুলি নিয়েছেন, তার অনেকগুলিই সাধারণ মানুষের স্বার্থে ছিল না।



















