নয়াদিল্লি, ১৪ মে :(আইএএনএস) :পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ল ভারতের পাইকারি মূল্যস্ফীতিতে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশের পাইকারি মূল্যসূচক বা ডাব্লিউপিআই-ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩ শতাংশে।
মার্চ মাসে এই হার ছিল ৩.৮৮ শতাংশ। মূলত জ্বালানি ও অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই পাইকারি মূল্যস্ফীতিতে বড়সড় বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গোষ্ঠীতে মাসওয়ারি ডাব্লিউপিআই মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে ১৮.২২ শতাংশ বেড়েছে। অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২৯.৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও বিদ্যুতের দামে ২.৫৩ শতাংশ পতন কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ডাব্লিউপিআই খাদ্য মূল্যস্ফীতি মার্চের মতোই ১.৮৫ শতাংশে স্থির রয়েছে। তবে খাদ্যশস্য, ডাল এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নিয়ে গঠিত ফুড ইনডেক্স এপ্রিলে মার্চের তুলনায় ২.৩১ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, সামগ্রিক সূচকে ৬৪.২৩ শতাংশ ওজন থাকা উৎপাদিত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও এপ্রিলে ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গোষ্ঠীর ২২টির মধ্যে ২১টি পণ্যের দাম বেড়েছে।
এদিকে, পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খুচরো মূল্যসূচক বা সিপিআই-ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৩.৪৮ শতাংশে। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৩.৪ শতাংশ।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার সেই চাপ পুরোপুরি গ্রাহকদের উপর চাপায়নি। ফলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানিভিত্তিক সিপিআই মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে ১.৭১ শতাংশেই সীমাবদ্ধ ছিল।
পণ্যমূল্যের নিরিখে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে রুপোর গয়নায়, যেখানে দাম বেড়েছে ১৪৪.৩৪ শতাংশ। সোনার গয়নার দামও বেড়েছে ৪০.৭২ শতাংশ।
খাদ্যপণ্যের মধ্যে আলুর দাম ২৩.৬৯ শতাংশ এবং পেঁয়াজের দাম ১৭.৬৭ শতাংশ কমেছে। ছোলা ও মটরশুঁটির দামও কমেছে। তবে টমেটোর দাম একলাফে ৩৫.২৮ শতাংশ বেড়েছে বলে সরকারি তথ্য থেকে জানা গিয়েছে।



















