নয়াদিল্লি/তিরুবনন্তপুরম, ১৪ মে (আইএএনএস): টানা জল্পনা, দরকষাকষি এবং রাজনৈতিক লবিংয়ের পর অবশেষে কেরলের ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভি. ডি. সাথীসান-এর নাম ঘোষণা করল কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। দলের অন্দরে এই সিদ্ধান্তকে কেরল রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা দীপা দাশমুন্সি, মুকুল ওয়াসনিক এবং অজয় মাকেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে জোরদার আলোচনা চলেছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে. সি ভেনুগোপাল-কে চূড়ান্ত বৈঠকের জন্য ডেকে পাঠান রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রমেশ চেনিথালা-কে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে সাথীসনই এগিয়ে গিয়েছেন।
কোচি জেলায় জন্মগ্রহণকারী সাথীসন এই মাসের শেষেই ৬২ বছরে পা দেবেন। পেশায় আইনজীবী সাথীসন ২০০১ সালে পারাভুর কেন্দ্র থেকে প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হন। বিধানসভায় তাঁর তীক্ষ্ণ বক্তৃতা, তথ্যভিত্তিক আক্রমণ এবং রাজনৈতিক কৌশলের জন্য তিনি দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইউডিএফের বড় পরাজয়ের পর তাঁকে বিরোধী দলনেতা করা হয়। প্রথমে তাঁকে আপসের প্রার্থী বলে মনে করা হলেও পরবর্তীতে তিনি সেই পদকে নিজের রাজনৈতিক উত্থানের মঞ্চে পরিণত করেন।
স্বর্ণ পাচার কাণ্ড, এআই ক্যামেরা বিতর্ক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে তিনি কেরলে বামবিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।
কেরল কংগ্রেসে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ‘এ’ এবং ‘আই’ গোষ্ঠীর বাইরে থেকেও তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। সেই কারণেই তরুণ বিধায়ক ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।
যদিও দলের একাংশের অভিযোগ, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের প্রবণতা দেখান। তবে সমালোচকরাও মানছেন, বর্তমানে কেরল কংগ্রেসে জনসংযোগের দিক থেকে সাথীসনের জনপ্রিয়তা অনেকটাই এগিয়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি তিরুবনন্তপুরমে নিজের সরকারি বাসভবনে পৌঁছন। কিছুক্ষণের মধ্যেই অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে। সমর্থকদের ভিড়ের মধ্য দিয়ে নীরবে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী শিবির থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে সাথীসনের উত্থান কেরলে কংগ্রেসের নতুন, আক্রমণাত্মক এবং মিডিয়া-সচেতন নেতৃত্বের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।



















