দেহরাদুন, ১৩ মে : জ্বালানি ও সম্পদ সংরক্ষণে একাধিক বড় পদক্ষেপ ঘোষণা করল উত্তরাখণ্ড সরকার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানালেন, তাঁর সরকারি গাড়িবহর ৫০ শতাংশ কমানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র শক্তি সংরক্ষণের আহ্বানকে “জাতীয় স্বার্থে অঙ্গীকার” বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে ধামি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান শুধু শক্তি সাশ্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আত্মনির্ভর, দায়িত্বশীল ও সক্ষম ভারত গড়ার এক সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ যখন সর্বাগ্রে, তখন প্রত্যেক নাগরিক ও জনপ্রতিনিধির কর্তব্য নিজেদের স্তর থেকে সম্পদ সংরক্ষণে ভূমিকা নেওয়া।
তিনি মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিকদের অপ্রয়োজনীয় যানবাহন ব্যবহার এড়ানোর পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান। শক্তি সংরক্ষণকে গণআন্দোলনে পরিণত করারও ডাক দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও সারের দাম বেড়েছে এবং ভারতের আমদানি নির্ভরতা ও আর্থিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের গাড়িবহর অর্ধেক করা। সপ্তাহে একদিন “নো ভেহিকল ডে” পালন করা হবে, যেদিন সরকারি কর্মীরা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে কাজ করবেন। সাধারণ মানুষকেও স্বেচ্ছায় সপ্তাহে একদিন যানবাহন ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারি দফতরগুলিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক বাড়ানো হবে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রেও সম্ভব হলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যবস্থা চালুর উৎসাহ দেওয়া হবে।
উত্তরাখন্ড সরকার পরিবহণ দফতরকে গণপরিবহনের বাস পরিষেবা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি কর্মীদের গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। একাধিক দফতরের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের দিনে একটি মাত্র গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।
পরিষ্কার জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে নতুন বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি আনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কেনা সরকারি গাড়ির অন্তত ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে বৈদ্যুতিক হতে হবে। পাশাপাশি ইভি চার্জিং স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করা হবে।
সরকারি আধিকারিকদের বিদেশ সফরে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পাশাপাশি “ভিজিট মাই স্টেট” প্রচারের মাধ্যমে দেশীয় পর্যটনকে উৎসাহ দেওয়া হবে। উত্তরাখণ্ডের ঐতিহ্য, ধর্মীয়, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ ও ইকো-ট্যুরিজম সার্কিটগুলিকে বিশেষভাবে প্রচার করা হবে।
ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের জন্য সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স চালু করা হবে এবং প্রবাসী ভারতীয়দের উত্তরাখণ্ডে ছুটি কাটাতে উৎসাহ দেওয়া হবে।
“মেরা ভারত, মেরা যোগদান” অভিযানের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং “মেড ইন স্টেট” উদ্যোগে স্থানীয় পণ্যের প্রচারও করা হবে। সরকারি ক্রয়ে “মেক ইন ইন্ডিয়া” নীতির কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
সম্পদ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে নাগরিকদের এক বছরের জন্য সোনা কেনা সীমিত রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কম তেলযুক্ত খাবার ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে জোর দিয়ে সচেতনতা অভিযান চালানো হবে। স্কুল, হাসপাতাল ও সরকারি ক্যান্টিনে তেলের ব্যবহার পর্যালোচনা করা হবে এবং হোটেল, ধাবা ও রাস্তার খাবারের দোকানগুলিকে কম তেলের রান্না উৎসাহিত করা হবে।
টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকদের প্রাকৃতিক চাষ, জিরো বাজেট ফার্মিং এবং জৈব উপকরণের ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সার ব্যবহারে ভারসাম্য ও মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সচেতনতা বাড়ানো হবে।
পরিষ্কার শক্তির ব্যবহারে জোর দিয়ে সরকার জানিয়েছে, পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি সংযোগ দ্রুত সম্প্রসারণ করা হবে। বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সরকারি আবাসন। পাশাপাশি পিএম সূর্য ঘর যোজনা-র আওতায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে উৎসাহিত করা হবে এবং গ্রামীণ এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খনি, সৌরশক্তি ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়াও দ্রুততর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবগুলি নিষ্পত্তি করবে বলে জানানো হয়েছে।



















