অমরাবতী, ১৩ মে : প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি চালু করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন এন চন্দ্রবাবু নাইডু। বুধবার তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্ব দ্রুত দূরবর্তী কর্মপদ্ধতির দিকে এগোচ্ছে এবং সরকারি ক্ষেত্রেও এই সংস্কৃতি উৎসাহিত করা উচিত।
অমরাবতীর নিদামারু এলাকায় বল্লিনেনি ইনস্টিটিউট অব স্কিল, এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (বিআইএসইআর)-এর শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ওয়ার্ক ফ্রম হোম এখন বাস্তবতা। এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে গোটা বিশ্ব ঘরে বসেই পরিচালিত হতে পারে। এই পদ্ধতিকে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত মিতব্যয়িতা ও সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপগুলিকেও সমর্থন করেন নাইডু। তিনি সাধারণ মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আট দফা কর্মসূচি মেনে চলার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে জানান, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারও আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবে।
তিনি বলেন, পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমাতে পারলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোরও ডাক দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, বর্তমানে দীর্ঘ গাড়ির কনভয়ের প্রবণতা বেড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধিদের ছোট কনভয় ব্যবহার করে উদাহরণ স্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত ও যুক্তিসঙ্গত হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন।
বিদেশ ভ্রমণ কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেরও সমর্থন করেন নাইডু। তিনি বলেন, আমাদের দেশ ও রাজ্যেই অসাধারণ পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। বিদেশে যাওয়ার বদলে দেশের মধ্যেই ভ্রমণ করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক নাগরিকের মনে ‘আমার দেশ, আমার দায়িত্ব’ মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সোনার ক্রয় কমানোর বিষয়েও মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি জানান, বিদেশি জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাতে রাজ্য সরকার স্থানীয়ভাবে সবুজ শক্তি উৎপাদনের কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি খামার ও বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপনের উপরও জোর দেন তিনি।
বিআইএসইআর-কে অমরাবতীর একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে নাইডু জানান, ২৩ একর জমিতে কলেজ এবং ২ একরে স্কিল ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলা হচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উৎকর্ষতা আনার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠান এক লক্ষ মানুষকে দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, কিমস হাসপাতাল একসময় ছোট পরিসরে শুরু হলেও বর্তমানে ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদে পরিণত হয়েছে। হায়দরাবাদকে দেশের অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কিমস-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলির বড় ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে অমরাবতীকে ভবিষ্যতমুখী শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বিশাখাপত্তনম-কেও একটি বিশ্বমানের নগরীতে পরিণত করার কাজ চলছে।
তিনি আরও ঘোষণা করেন, আগামী ১৫ মে রায়লসীমা অঞ্চলে একটি ফাইটার জেট নির্মাণ কারখানার শিলান্যাস করা হবে। তাঁর মতে, রায়লসীমা ভবিষ্যতে উদ্যানপালন ও প্রযুক্তির বড় কেন্দ্র হয়ে উঠবে। কুর্নুল ইতিমধ্যেই ‘ড্রোন সিটি’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে এবং শ্রী সিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।



















