মুম্বই, ১৩ মে (আইএএনএস): প্রশাসনিক মিতব্যয়িতার পথে বড় পদক্ষেপ নিল দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র সরকার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মন্ত্রী ও শীর্ষ আমলাদের পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফর অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে, মন্ত্রী ও আমলাদের অনুমোদিত বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরের বৈঠক, সমঝোতা ও প্রশাসনিক কাজকর্ম এখন থেকে মূলত ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি খরচ কমবে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জাতীয় অভিযানে সহায়তা মিলবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
সরকারি সূত্রের খবর, প্রশাসনিক কাজ বা স্টাডি ট্যুরের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সমস্ত বিদেশ সফর আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের কোষাগারের উপর চাপ কমানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সংযমের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বৈঠক ও আলোচনার জন্য ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে বিমান ভাড়া, হোটেল খরচ এবং অন্যান্য সফর ব্যয়ের বিপুল সাশ্রয় হবে বলে প্রশাসনের দাবি।
প্রধানমন্ত্রী-র মিতব্যয়িতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজ্যের পর্যটন, খনি এবং নারী ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী নিজের লন্ডন ও প্যারিস সফর বাতিল করেছেন। জানা গেছে, তিন মাস আগে পরিকল্পিত ওই সফরটি মূলত পারিবারিক ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে ছিল। তবে জ্বালানি সাশ্রয় ও বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানোর স্বার্থে তিনি সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে “দেশ আগে” ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদির আহ্বানের পর মহারাষ্ট্র বিধানসভার বিধায়কদের প্রস্তাবিত জাপান সফরও বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার। আন্তর্জাতিক সংলাপ ও তথাকথিত ‘স্টাডি ট্যুর’-এর ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিনির্ভর ভার্চুয়াল ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও ব্যয় এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।



















