নয়াদিল্লি, ১৩ মে (আইএএনএস) : পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতজনিত জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে দেশবাসীকে মিতব্যয়িতার আহ্বান জানানোর কয়েকদিনের মধ্যেই নিজেই উদাহরণ তৈরি করলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি খরচ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা আরও জোরালো করতে নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ-কেও কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে।
সম্প্রতি অসম সফরে মুখ্যমন্ত্রী-এর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদান এবং গুজরাটে সোমনাথ অমৃত মহোৎসবে অংশ নেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কম সংখ্যক গাড়ি দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল যে সাধারণ মানুষের উপর মিতব্যয়িতার চাপ সৃষ্টি করা হলেও সরকার নিজে আন্তর্জাতিক তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে দূরে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যয় সংকোচনের বার্তা দেওয়ায়, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, আগামী দিনে আরও বহু মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিক একই পথে হাঁটতে পারেন।
গত সপ্তাহে হায়দরাবাদ সফরে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান। তিনি মেট্রো ও কারপুলিংয়ের মতো গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের উপর জোর দেন। পাশাপাশি সোনা কেনা কমানো এবং বিদেশ সফরের বদলে দেশীয় পর্যটনকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও আবেদন জানান তিনি।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর কনভয়েও ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক যানবাহন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে দেশের বিপুল জ্বালানি ব্যয় হ্রাসের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
আগামী দিনে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও সরকারি দপ্তরেও মিতব্যয়িতার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। এর মধ্যে কারপুলিং, মেট্রো ব্যবহার এবং বড় আকারের অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার মতো উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।


















