নয়াদিল্লি, ১৩ মে (আইএএনএস) : ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভিবাসন ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। এমনই দাবি করেছে ভারতের গোয়েন্দা সূত্র।
সূত্রের খবর, তারিক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারতীয় গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, বর্তমানে অভিবাসন ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল। দুই দেশই বিষয়টি পরিণতভাবে মোকাবিলা করতে চাইছে। কিন্তু আইএসআই-সমর্থিত কিছু গোষ্ঠী এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ভুয়ো প্রচার চালানোর চেষ্টা করছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বাংলাদেশে সক্রিয় আইএসআই-ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্কগুলিকে অভিবাসন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও ফাটল ধরানো।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য, আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে আইএসআই নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। ভারতের এবং বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কাজের উদ্দেশ্যে তারা একাধিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে বলেও অভিযোগ।
আইবি-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পাকিস্তানের আইএসআই বর্তমানে গোপনে কাজ করছে এবং বাংলাদেশে মতাদর্শভিত্তিক গোষ্ঠীগুলিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ভারতের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রচার বাড়ানো হচ্ছে এবং অভিবাসন ইস্যুকেই প্রধান হাতিয়ার করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ভুয়ো প্রচার চালানো হবে। এরপর সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে সক্রিয় মডিউলগুলিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে (হুজি) এবং (জেএমবি)-এর মতো জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের। অভিযোগ, এই সংগঠনগুলির বহু সদস্য পাকিস্তানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
গোয়েন্দা মহলের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের সুসম্পর্ক পূর্ব দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত সন্ত্রাস দমন, জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের শান্তি বজায় রাখতেও দুই দেশের সহযোগিতা জরুরি।
বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএসআই-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলি বারবার ভুয়ো বয়ান ছড়ানোর চেষ্টা করবে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং সেই কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক খারাপ করার প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আরও দাবি, বাংলাদেশের মাটিতে আইএসআইয়ের সক্রিয়তা নতুন নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই এই তৎপরতা রয়েছে। তবে এবার তারা আরও বিস্তৃতভাবে নিজেদের কার্যক্রম বাড়াতে চাইছে, যার ফলেই সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বেড়েছে।
সূত্রের খবর, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, কনস্যুলার পরিষেবা এবং যৌথ নদী কমিশনের মতো বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ সমস্যাও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঙ্গলবার ঢাকা গিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে এই ইস্যুতে আলোচনা করতে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বাংলাদেশে আইএসআই-ঘনিষ্ঠ কার্যকলাপের উপর কড়া নজর রাখছে। বিশেষত পাকিস্তানপন্থী কট্টরপন্থী গোষ্ঠী, কিছু প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং হুজি ও জেএমবি-র মতো সংগঠনগুলিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।


















