কাঠমান্ডু, ১১ মে(আইএএনএস):তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় সোমবার সকালে চাঞ্চল্য ছড়ায় ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ। তবে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে বিমানে থাকা সকল যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইস্তানবুল থেকে কাঠমান্ডুগামী তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানটি সোমবার সকাল প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিট নাগাদ অবতরণের সময় পিছনের ল্যান্ডিং গিয়ারে আচমকা আগুন ধরে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরের জরুরি পরিষেবা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
তথ্য আধিকারিক জ্ঞানেন্দ্র ভুল জানান, বিমানে মোট ২৮৮ জন আরোহী ছিলেন এবং সকলেই নিরাপদে রয়েছেন। যাত্রীদের দ্রুত টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিমানের লাগেজও নামিয়ে ফেলা হয়েছে।
ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য বিমানবন্দরের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল। তবে পরে বিমানটিকে বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট বেতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় বিমান চলাচল শুরু হয়।
চোখে পড়ে, বিমানটির পিছনের ল্যান্ডিং গিয়ার থেকে আগুনের ফুলকি ও ধোঁয়া বেরোতে শুরু করলে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যাত্রীদের জরুরি নির্গমন পথ দিয়ে বের করে আনা হয়।
ঘটনার পর বিমানটিকে আপাতত গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাঁদের জরুরি ভিত্তিতে অন্য গন্তব্যে পৌঁছনোর প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের বিকল্প বিমানে পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে বিমানটির প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চলছে। রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং ওভারহল দলটি খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি নেপালের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ফ্লাইট সেফটি বিভাগও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স প্রতি সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করে নেপালে এবং ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডার সঙ্গে নেপালের সংযোগ রক্ষা করে। এর আগেও ২০১৫ সালের ৪ মার্চ একই বিমান সংস্থা ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর -এ দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। সেই সময় অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে ছেড়ে ঘাসে ঢাকা অংশে চলে গিয়েছিল, যদিও কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।



















