নয়াদিল্লি, ১১ মে(আইএএনএস): ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লবের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে তা দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কতটা ক্ষমতায়িত করতে পারে তার উপর— এমনই মন্তব্য করলেন গৌতম আদানি।
সোমবার ভারতীয় শিল্প সংঘ-এর ‘অ্যানুয়াল বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে আদানি বলেন, “ভারতকে সেই ধারণা প্রত্যাখ্যান করতে হবে যে এআই -এর প্রধান কাজ হবে কর্মসংস্থান কমানো বা মানুষের জীবিকা কেড়ে নেওয়া।”
তিনি বলেন, “ভারতকে এমন এআই তৈরি করতে হবে যা উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, ক্ষুদ্র উদ্যোগকে শক্তিশালী করবে এবং ভারতীয়দের বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার উপযুক্ত করে তুলবে।”
ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস-এর উদাহরণ টেনে আদানি বলেন, দেশের সবচেয়ে সফল প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলি তখনই কার্যকর হয় যখন তা প্রযুক্তির সুযোগ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং বৃহৎ অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে।
তাঁর কথায়, “ইউপিআই শুধু টাকা লেনদেনের মাধ্যম নয়। এটি ছোট ব্যবসাগুলিকে দৃশ্যমান করেছে, মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে এবং নতুন অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে।”
এআই -কে ঘিরেও ভারতের সামনে একই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত আদানির। তিনি বলেন, নতুন শিল্প, ব্যবসায়িক মডেল এবং কর্মসংস্থানের পরিবেশ গড়ে তুলতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে এই সুযোগ বাস্তবায়িত করতে হলে ভারতকে সম্পূর্ণ এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, ডেটা সেন্টার, কম্পিউটিং অবকাঠামো, নেটওয়ার্ক, অ্যাপ্লিকেশন এবং এআই -ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা।
আদানি আরও বলেন, “এআই যুগ শুধু চিপ, সার্ভার ও অ্যালগরিদম দিয়ে তৈরি হবে না। এর সঙ্গে সমানভাবে প্রয়োজন টেকনিশিয়ান, ইলেকট্রিশিয়ান, অপারেটর, কুলিং ইঞ্জিনিয়ার এবং লক্ষ লক্ষ দক্ষ কর্মীর।”
বিদেশি ডিজিটাল অবকাঠামোর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, “সেমিকন্ডাক্টর এখন কূটনৈতিক শক্তির অস্ত্র হয়ে উঠেছে। ডেটাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্লাউড প্রযুক্তিকেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “ভারত তার বুদ্ধিবৃত্তিক ভবিষ্যতের অবকাঠামো ভাড়া নিয়ে চালাতে পারে না। ভারতকে নিজস্ব মাটিতে নিজেই তা গড়ে তুলতে হবে, শক্তি জোগাতে হবে এবং তার মালিকানা রাখতে হবে।”
এই প্রসঙ্গে আদানি গ্রুপ-এর ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পরিষ্কার জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং ডেটা সেন্টারে এই বিনিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি গুগল এবং মাইক্রোসফট-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতে নিজস্ব কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আদানি বলেন, “যেখানে অনেকেই অসম্ভব দেখেছেন, সেখানেই আমরা কাজ করেছি— জলাভূমিতে বন্দর গড়েছি, অন্ধকারাচ্ছন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করেছি।”
শেষে তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ নিজে থেকে আসে না, তাকে তৈরি করতে হয়।” তাঁর মতে, আগামী দিনের স্বাধীনতার লড়াই হবে বিদ্যুৎ গ্রিড, ডেটা সেন্টার, কারখানা, শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার এবং মানুষের চিন্তাশক্তিকে ঘিরে।



















