বার্লিন, ১১ মে (আইএএনএস): পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ তুললেনশফি বুরফত, যিনি জিয় সিন্ধ মুত্তাহিদা মাহাজ-এর চেয়ারম্যান। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আদর্শিক ও সামাজিক কাঠামোর উপর সেনাবাহিনীর আধিপত্য দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্র, আঞ্চলিক শান্তি ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট করে শফি বুরফত বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বারবার ক্ষমতাচ্যুত করা, রাজনৈতিক নেতাদের ফাঁসি দেওয়া, বিরোধী কণ্ঠকে কারাবন্দি বা নির্বাসিত করা এবং অনির্বাচিত পুতুল সরকার বসানোর মাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বরাবরই রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনী দেশের রাজনীতি, সংবাদমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা এবং অর্থনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাঁর মতে, সামরিক শাসকেরা নিজেদের ‘বিজয়ী নায়ক’ হিসেবে তুলে ধরতে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, যুদ্ধংদেহী ভাষণ ও অতিরঞ্জিত শক্তিপ্রদর্শনের আশ্রয় নিয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সমালোচনা করে বুরফত বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে তাঁর “আবেগপ্রবণ উগ্র জাতীয়তাবাদী স্লোগান, পারমাণবিক হুমকি ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য” কোনও দায়িত্বশীল সামরিক নেতৃত্বের পরিচয় নয়।
সিন্ধি এই নেতা দাবি করেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে “ভয়, কৃত্রিম ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, স্থায়ী সংঘাত ও আদর্শগত প্রভাব” ব্যবহার করে সেনাশাসিত কাঠামো টিকিয়ে রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত, ভোটে কারচুপি এবং বিরোধী মত দমনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করেছে।
বুরফতের অভিযোগ, সেনাবাহিনী সরকারি ও বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের ভয় দেখায় এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কারাবন্দি করে রাখে। পাশাপাশি “অনুগত রাজনৈতিক গোষ্ঠী” ও নিয়ন্ত্রিত অসামরিক সরকারের মাধ্যমে পরোক্ষ শাসন চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সাংবাদিক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক কর্মী এবং জাতীয় অধিকারের দাবিদাররা সেনা ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার চাপে সেন্সরশিপ, কারাবাস, গুম, নির্যাতন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হচ্ছেন।”
শফি বুরফত আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠান শুধু জঙ্গি ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে মদতই দেয়নি, বরং প্রতিবেশী দেশগুলিকে অস্থিতিশীল করার হাতিয়ার হিসেবেও তাদের ব্যবহার করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে তিনি আবেদন জানান, পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের “দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক ভাষা ও বিপজ্জনক উদ্দেশ্য” সম্পর্কে গুরুত্ব সহকারে নজর দেওয়ার জন্য।
একই সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে “অবদমিত ঐতিহাসিক জাতিসত্তাগুলির” মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিচয় সঙ্কটের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।



















