ঢাকা, ৯ মে (আইএএনএস): ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলের অভিযোগ, এসব মামলার অনেকগুলিই “ভুয়ো ও সাজানো” এবং ন্যায়বিচারের বদলে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ, আর্থিক লাভ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দাবি, বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-এর তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কজনিত খুনকে “আন্দোলনকালীন হিংসা” হিসেবে দেখানো, জমি বা পারিবারিক বিবাদকে খুন বা গুমের মামলা হিসেবে রূপ দেওয়া, এমনকি জীবিত ব্যক্তিকেও মৃত দেখিয়ে মামলা দায়ের করার অভিযোগ।
দলের তরফে আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে অভিযোগকারীরা নিজেদের নামে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়েই অবগত ছিলেন না। আবার কোথাও ভুক্তভোগীর পরিচয়, ঠিকানা বা ফোন নম্বর সরকারি নথির সঙ্গে মেলেনি।
আওয়ামী লীগের দাবি, তদন্ত এগোতেই বহু অভিযোগকারী মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এতে মামলাগুলির সত্যতা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে।
তদন্তের তথ্য তুলে ধরে দলটি জানিয়েছে, খতিয়ে দেখা বহু মামলায় অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। ফলে তদন্তকারীরা বহু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজের সুপারিশ করেছেন।
আওয়ামী লীগের বক্তব্য, “এতে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে— এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে কতগুলি প্রকৃত এবং কতগুলি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
পিবিআই সদর দফতরের তথ্য উদ্ধৃত করে দলটি জানিয়েছে, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জুলাই ২০২৪ আন্দোলন-সংক্রান্ত মোট ১৯৫টি মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের হাতে ছিল।
দলের দাবি, এর মধ্যে ২৪টি মামলায় কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আরও ২০টি মামলা অভিযোগকারীরাই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যেগুলির অধিকাংশই “ভুয়ো” বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় সাতটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং একটি মামলায় অভিযোগকারী আদালতে হাজিরই হননি। সব মিলিয়ে ৫২টি মামলায় তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে পিবিআই, যেগুলিকে অপ্রমাণিত বা অকার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার ঢাকায় জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া সব মামলার পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
খবর অনুযায়ী, ভুয়ো মামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি জানিয়েছেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলি খতিয়ে দেখবে।
________



















