আগরতলা, ৯ মে : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস-এর উদ্যোগে এক স্মরণসভা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, যুব কংগ্রেস নেতা নীল কমল সাহা এবং মহিলা প্রদেশ কংগ্রেস নেত্রী সর্বানী ঘোষ চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয় এবং তাঁর মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার উপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, বিশ্ব মানবতাবাদেরও এক উজ্জ্বল প্রতীক। বর্তমান সময়ে তাঁর সম্প্রীতির বার্তা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি ইতিহাসকে বিকৃত করে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে যেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুভাষ চন্দ্র বসু বা সরদার বল্লভভাই প্যাটেল-এর বিরোধী ছিল। তার দাবি, এগুলো বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারের অংশ।
জাতীয় সংগীত “জনগণমন” এবং “বন্দেমাতরম” প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জনগণমন”-এর পাশাপাশি “বন্দেমাতরম” বাধ্যতামূলক করার সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে সংসদে কিছু বিজেপি সাংসদের “বন্দেমাতরম”-কে জাতীয় সংগীত করার প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যে বিজেপির আদর্শিক ইতিহাসের সমালোচনা করে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজীবন সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। অথচ বিজেপির আদর্শিক জনক হিসেবে পরিচিত শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি অতীতে মুসলিম লীগের সমর্থিত সরকারের অংশ ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া তিনি খোয়াই শহরের একটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপিকে কটাক্ষ করেন। তার অভিযোগ, স্বামী বিবেকানন্দের নামে দীর্ঘদিনের একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন করে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নামে করা হয়েছে। নতুন রাস্তার নামকরণে আপত্তি না থাকলেও স্বামী বিবেকানন্দের নাম সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানায় প্রদেশ কংগ্রেস।
প্রবীর চক্রবর্তী আরও বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা, রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রবণতা বেড়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
শেষে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনের আগে ও পরে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। যদিও পশ্চিমবঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিজেপি ও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর মধ্যে, তবুও বিজেপির প্রধান আক্রমণের লক্ষ্য ছিল কংগ্রেস বলেও দাবি করেন তিনি।



















