বিশালগড়, ১৩ মে: একটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যে। গত ২৩ দিন ধরে আগরতলা জিবি হাসপাতালের মর্গে পড়ে রয়েছে আব্দুল আউয়াল মিয়ার দেহ। অন্যদিকে, বিশ্রামগঞ্জ গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় পড়ে রয়েছে তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয়—প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা। অথচ এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও আত্মীয়স্বজন বা ওয়ারিশদারের সন্ধান মেলেনি।
জানা গিয়েছে, আব্দুল আউয়াল মিয়া ১৯৮৩ সালে বিশ্রামগঞ্জ গ্রামীণ ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। ব্যাংক সূত্রে খবর, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে শেষবার ২০১৫ সালে ১০ হাজার টাকা তোলা হয়েছিল। এরপর আর কোনও ধরনের লেনদেন হয়নি।
বুধবার দুপুরে বিষয়টি বিশ্রামগঞ্জ থানার নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের দায়িত্বে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর শান্তি বাও ত্রিপুরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে মৃত ব্যক্তির পরিচয় ও তাঁর সম্ভাব্য আত্মীয়দের খোঁজ পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের নথিতে ঠিকানা হিসেবে শুধুমাত্র “বিশ্রামগঞ্জ” উল্লেখ রয়েছে। বৃদ্ধ বয়সে আব্দুল আউয়াল মিয়া আগরতলার বিটার বন মসজিদ এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানেই গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু মৃত্যুর এতদিন পরেও কোনও আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তি সামনে না আসায় এখনও পর্যন্ত তাঁর দেহ জিবি হাসপাতালের মর্গেই পড়ে রয়েছে। ঘটনাটি মানবিক দিক থেকে গভীর উদ্বেগ ও আবেগের সৃষ্টি করেছে।


















