কলকাতা, ১৩ মে : পশ্চিমবঙ্গে সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করতে এবার আর রাজ্য সরকারের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না সিবিআই-এর। বুধবার এই ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার সিবিআইয়ের “স্ট্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স” বা স্থায়ী অনুমতি প্রত্যাহার করেছিল। ফলে আদালতের নির্দেশ বা অনুমোদন ছাড়া সিবিআই কোনও স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করতে পারত না।
তবে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার সিবিআইকে পুনরায় সেই “স্ট্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স” ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আর কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করার আগে রাজ্যের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
এদিকে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পদ বজায় রেখে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আমাকে ভবানীপুর বা নন্দীগ্রামের মধ্যে একটি আসন ছাড়তেই হবে। আমি ভবানীপুর আসন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষ কখনও আমার অভাব অনুভব করবেন না।
শুভেন্দু আরও বলেন, বিধায়ক না থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নন্দীগ্রামের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখবেন। নতুন বিধায়কও এলাকার উন্নয়নে মনোযোগ দেবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।
উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী তিনবার নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি প্রথমবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে মমতা ব্যানার্জী মন্ত্রিসভায় পরিবহণমন্ত্রী হন।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপি-তে যোগ দেন এবং নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। ভবানীপুরে তিনি ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন।



















