নয়াদিল্লি, ১৩ মে (আইএএনএস) : তামিলাগা ভেট্ট্রি কাঝাগম-এর বিধায়ক আর. শ্রীনিবাসা সেতুপতিকে তামিলনাড়ু বিধানসভার ফ্লোর টেস্টে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে বুধবার স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তিরুপত্তুর বিধানসভা কেন্দ্রের এক ভোটের ব্যবধানে জয়কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ সেতুপতির দায়ের করা বিশেষ অনুমতি পিটিশনের শুনানিকালে এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে। শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করে। আদালত প্রশ্ন তোলে, যখন নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনে নির্বাচন পিটিশনের বিধান রয়েছে, তখন সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের হওয়া রিট আবেদন কীভাবে গ্রহণ করা হলো।
শুনানিতে আদালত মন্তব্য করে, “এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। হাইকোর্ট নিজেই বলছে যে এর প্রতিকার নির্বাচন পিটিশনের মাধ্যমে হওয়া উচিত, অথচ একইসঙ্গে রিট আবেদনও গ্রহণ করেছে।”
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, প্রতিপক্ষকে জবাব দাখিলের জন্য দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে এবং হাইকোর্টে চলা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।
এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ সেতুপতিকে কোনও ফ্লোর টেস্ট, আস্থা ভোট, অনাস্থা প্রস্তাব বা বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাই সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। বিচারপতি এল. ভিক্টোরিয়া গৌরি এবং এন. সেথিলকুমারের বেঞ্চ ডিএমকে নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী কে.আর. পেরিয়াকারুপ্পনের দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানিতে এই নির্দেশ দেয়।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, তিরুপত্তুর কেন্দ্র থেকে সেতুপতি পেয়েছিলেন ৮৩,৩৬৫ ভোট এবং পেরিয়াকারুপ্পন পেয়েছিলেন ৮৩,৩৬৪ ভোট। মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের পর পেরিয়াকারুপ্পন অভিযোগ করেন, ডাকযোগে পাঠানো একটি ব্যালট ভুলবশত অন্য তিরুপত্তুর কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল এবং তা বাতিল হয়ে যায়।
মাদ্রাজ হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল, এটি শুধুমাত্র ভোট পুনর্গণনা বা ভোট বাতিলের সাধারণ বিরোধ নয়, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সততা রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্নও জড়িত। আদালত আরও মন্তব্য করে, “এক ভোটের ব্যবধানে নির্ধারিত নির্বাচনে প্রতিটি ভোটই সম্ভাব্যভাবে ফল নির্ধারণকারী।”
অন্যদিকে, একই দিনে তামিলনাড়ু বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আস্থা ভোটে জয়লাভ করেন। তাঁর সরকারের পক্ষে ১৪৪ জন বিধায়ক ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২২টি এবং পাঁচজন বিরত থাকেন।
ফ্লোর টেস্ট চলাকালীন বিধানসভায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।-এর নেতৃত্বে ডিএমকে বিধায়কেরা ওয়াকআউট করেন। অভিযোগ ওঠে, বিজয় সরকার বিদ্রোহী এআইএডিএমকে বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজনৈতিক ভাঙন উসকে দিচ্ছে।
এদিকে এআইএডিএমকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন, তাঁর শিবিরের ৪৭ জন বিধায়ক আস্থা ভোটের বিরোধিতা করবেন। তবে বিদ্রোহী নেতা এস.পি. ভেলুমানি ও তাঁর সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত টিভিকে সরকারের পক্ষেই ভোট দেন।
আস্থা ভোটের আগে আলোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, তাঁর সরকার ধর্মনিরপেক্ষ নীতিতে পরিচালিত হবে এবং “ঘোড়া কেনাবেচার রাজনীতি নয়, দ্রুতগতির প্রশাসন” উপহার দেবে।



















