ধর্মনগর, ১৩ মে: রাহুল কিশোর রায় মৃত্যুকাণ্ডে বড় ধাক্কা খেলেন অভিযুক্তরা। ধর্মনগর জেলা ও দায়রা আদালত মঙ্গলবার তিন অভিযুক্তের অগ্রিম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ধর্মনগরের রাজনৈতিক মহল।
জানা গিয়েছে,জামিন আবেদন নং ১৯, ২০২৬ মামলায় অভিযুক্ত অভিজিৎ দাস, সুরজ দেব এবং হীরকজ্যোতি নাথ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্রি-অ্যারেস্ট বেলের আবেদন জানান। মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর (বিএনএস)-এর ৩২৯(৪), ১১৭(২), ৩৫১(৩), ১০৮ ধারায় রুজু হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ মে ধর্মনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অনন্যা ভট্টাচার্য। অভিযোগে তিনি জানান, ৪ মে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ কয়েকজন দুষ্কৃতী তাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হামলা চালায়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তার স্বামী রাহুল কিশোর রায়কে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বাধা দিতে গেলে শ্বশুর-শাশুড়িকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওইদিন গভীর রাত প্রায় ১টার সময় ফের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং রাহুলকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন অর্থাৎ ৫ মে ভোর সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে বাড়ির বাথরুমে রাহুল কিশোর রায়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অজিত কুমার দাস যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে আত্মহত্যার প্রত্যক্ষ যোগ এখনও স্পষ্ট নয় এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্ররোচনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিরক্ষা পক্ষ দাবি করে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে মৃতের বাবা কিংবা স্ত্রী কেউই প্রথমদিকে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করেননি। পরে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্য করা হয়েছে বলেও আদালতে দাবি তোলা হয়।
আইনজীবী আরও প্রশ্ন তোলেন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। তার বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে অভিযুক্তদের নাম প্রচার হওয়ায় তদন্তের ক্ষতি হয়েছে, অথচ সেই বিষয়ে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এছাড়াও অভিযোগপত্র বা এফআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার দাবি, স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর এমন পরিস্থিতিতে একজন স্ত্রী কীভাবে টাইপ করা অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সেই কারণেই এফআইআর-এর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে আদালতে জানান তিনি।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, মামলার গুরুত্ব এবং তদন্তের বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে এই মুহূর্তে অভিযুক্তদের অগ্রিম জামিন দেওয়া সমীচীন নয়। সেই কারণেই আদালত তিন অভিযুক্তের প্রি-অ্যারেস্ট বেলের আবেদন খারিজ করে দেয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ধর্মনগরের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।



















