আগরতলা, ১৩ মে : ত্রিপুরাজুড়ে চলমান এস আই আর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল আমরা বাঙালী। আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এস আই আরের নামে যেন কোনও বৈধ নাগরিক তথা ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নির্বাচন কমিশনকে সুনিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি মে মাস থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে এস আই আরের কাজ শুরু হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে এস আই আরকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত কাজের চাপ ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। এমনকি কয়েকজন বি এল ও-র আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
দলের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে সাধারণ ভুলের কারণে বহু বৈধ ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর ফলে ত্রিপুরার নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র ভোটাধিকার হারানোর প্রশ্ন নয়, বরং ভবিষ্যতে “বেনাগরিক” বা “অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করছে। অসমের এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে দলটি দাবি করে, একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে বহু মানুষকে হয় ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হতে পারে, নয়তো পুশব্যাকের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে।
ত্রিপুরার জনবিন্যাস ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দলটি জানায়, যদি এস আই আর প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের জাতিগত বৈষম্য করা হয়, তবে তা রাজ্যের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী বাঙালি সমাজের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বিধানসভা ও লোকসভায় আসন সংরক্ষণ, চাকরি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বঞ্চনার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
‘আমরা বাঙালীর তরফ পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, ত্রিপুরার একজন বৈধ ভোটারের নামও যেন এস আই আরের কারণে বাদ না যায়। পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়, তবে রাজ্যবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবে দলটি। নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সকলের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।


















