আহমেদাবাদ, ১৩ মে : আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭২ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট “নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ” হওয়া উচিত বলে দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি ব্ল্যাক বক্সের তথ্য ও বিমানের কাঁচা ফ্লাইট ডেটা প্রকাশ করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবারগুলির বক্তব্য, সমস্ত প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করে শুধুমাত্র পাইলটদের উপর দায় চাপানো উচিত নয়। দুর্ঘটনার প্রথম বর্ষপূর্তির আগে আহমেদাবাদে আয়োজিত এক সভায় এই দাবি তোলেন প্রায় ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
গত বছরের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় যাত্রী, বিমানকর্মী এবং মাটিতে থাকা মানুষ মিলিয়ে মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়।
বর্তমানে দুর্ঘটনার তদন্ত করছে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হতে পারে।
গুজরাটের খেডা জেলার কাপাডভাঞ্জের বাসিন্দা কৃতিক পটেল জানান, তাঁর ২৪ বছরের ভাই দীর্থ পটেল ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। দীর্থ লিডসে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ভারতে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।
কৃতিক বলেন, আমরা ক্ষতিপূরণ পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমাদের আসল দাবি সত্যিটা সামনে আসুক। রিপোর্ট যেন নিরপেক্ষ হয় এবং শুধুমাত্র পাইলটদের উপর দায় না চাপানো হয়।
তাঁর অভিযোগ, বিমানে প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ত্রুটি থাকতে পারে। তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনার আগে দিল্লি থেকে আসা ওই বিমানে জল চুঁইয়ে পড়া ও বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা যাত্রীরা বলেছিলেন।
আর এক নিহত যাত্রী আকাশ পুরোহিতের বোন জানভি পুরোহিত বলেন, আমরা টাকা নয়, ন্যায়বিচার চাই। আমি জানতে চাই বিমানে আসলে কী হয়েছিল। যদি আগে থেকেই ত্রুটি ছিল, তাহলে বিমান ওড়ানো হল কেন?
জানভির বাবা নিলেশ পুরোহিত, যিনি পেশায় কৃষক, বলেন, সরকারের উচিত সৎভাবে রিপোর্ট প্রকাশ করা। বিমানে যদি কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকে, তা প্রকাশ্যে আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরিবার এভাবে সন্তান না হারায়।
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ছেলে আগেই বিমানের বৈদ্যুতিক সমস্যা ও ট্যাবলেট কাজ না করার বিষয়ে ই-মেল করেছিলেন।
দিউয়ের বাসিন্দা মহম্মদ রফিক জানান, তাঁর ২৫ বছরের ছেলে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষার জন্য লন্ডনে ফিরছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, এখনও পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার কাছ থেকে তাঁদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়নি।
রফিক বলেন, প্রথমদিকে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা যোগাযোগ রাখলেও পরে আর কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা শুধু জানতে চাই এই দুর্ঘটনা কেন ঘটল এবং ভবিষ্যতে যেন আর কারও সঙ্গে এমন না হয়।
ভাদোদরার হেতাল প্রজাপতি জানান, তাঁর স্বামী মহেশ কালাভাদিয়া, যিনি একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন, দুর্ঘটনার সময় মাটিতে ছিলেন এবং সেখানেই প্রাণ হারান। তিনি বলেন, পরিবার ক্ষতিপূরণ পেলেও এখন তাঁর চাকরির প্রয়োজন রয়েছে।
সমাজকর্মী কুলদীপ ইশরানি ওরফে কবিরাজ জানান, দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধর্মের পরিবারগুলি দুর্ঘটনাস্থলে ধর্মীয় আচার ও শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান করার অনুমতি চাইছেন।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ব্ল্যাক বক্সের “র’ ডেটা” প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (এফআইপি)-এর পক্ষ থেকেও তদন্তে যুক্তরাজ্যের এএআইবি-র আরও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানানো হয়েছে।


















