নয়াদিল্লি, ৯ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেছেন, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত রাজ্যে হিংসার পরিবেশ বন্ধ করা।
আইএএনএস-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মনোজ ঝা বলেন, “এ নিয়ে খুব বেশি বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। ভোট গণনার দিনই বিজেপি সরকারের জয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এর পেছনে যে কারণই থাকুক না কেন, সুবেন্দু অধিকারী গত ছয় বছর ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসেও ছিলেন। ফলে তাঁর যথেষ্ট রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তাঁকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আমাদের প্রত্যাশা, রাজ্যে হিংসার ঘটনা বন্ধ করাই সরকারের প্রথম কাজ হবে। সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী খুন হয়েছেন। জেল-সংক্রান্ত ঘটনায় একাধিক খুনের ঘটনাও আমরা দেখেছি। এমনকি গতকালও এক তৃণমূল কর্মী গুরুতর মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গিয়েছেন। তাই আমি মনে করি, হিংসার পরিবেশ দূর করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”
শনিবার পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুবেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার আরও পাঁচ সদস্যও শপথ গ্রহণ করেন।
শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে রাজনীতিতে আসা বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নিসিথ প্রামানিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং খুদিরাম টুডু।
অধিকারীর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ। এরপর পর্যায়ক্রমে শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, খুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দফতর বণ্টনের ঘোষণা হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথম ছয় মন্ত্রীর সামাজিক ও জাতিগত বৈচিত্র্য বিজেপির তরফে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। অশোক কীর্তনিয়া মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, খুদিরাম টুডু আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি, দিলীপ ঘোষ ওবিসি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, অগ্নিমিত্রা পাল কায়স্থ পরিবারভুক্ত এবং নিশীথ প্রামাণিক উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মুখ হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে সুবেন্দু অধিকারী নিজে ব্রাহ্মণ পরিবারভুক্ত। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিভিন্ন জাতিগত ও সামাজিক পটভূমি থেকে মন্ত্রী নির্বাচন করে বিজেপি বোঝাতে চেয়েছে যে নতুন সরকার সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান গুরুত্ব দেবে।



















