নয়াদিল্লি, ৯ মে (আইএএনএস): কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মজয়ন্তীতে শনিবার শ্রদ্ধা জানালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মানবতাবাদী ও দার্শনিক ভাবনার কথা স্মরণ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মর্যাদা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ খাড়গে লেখেন, “জোর করে এবং মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক অংশের মানুষ অন্য অংশের মতামতকে দাসত্বে পরিণত করার চেয়ে খারাপ কিছু হতে পারে না…” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর তিনি লেখেন, “গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জয়ন্তীতে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী মানবতাবাদী, কবি, দার্শনিক এবং সমাজসংস্কারক। তাঁর কথায় ভারত পেয়েছে জাতীয় সঙ্গীত, আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেয়েছে স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সহমর্মিতার ভাষা। তাঁর প্রগতিশীল চিন্তাধারা এবং কালজয়ী শিল্পকর্ম আজও মানুষের মনকে আলোকিত করে এবং মানবতাকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।”
কংগ্রেসও তাদের সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছে, “গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরজির জন্মজয়ন্তীতে অসংখ্য প্রণাম। তাঁর সাহিত্য, চিন্তাভাবনা এবং মানবতার বার্তা ভারতের আত্মাকে নতুন পরিচয় দিয়েছে। তাঁর সাহিত্যচর্চা, দেশপ্রেম এবং শিক্ষার প্রতি নিবেদন দেশের মানুষকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।”
পঁচিশে বৈশাখ নামে পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জয়ন্তী প্রতি বছর বাংলা মাস বৈশাখের ২৫ তারিখে পালিত হয়। এ বছর পশ্চিমবঙ্গে দিনটি পড়েছে ৯ মে। ১৮৬১ সালের মে মাসে কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি-তে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, দার্শনিক এবং সুরকার। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি। আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবেও তিনি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীতও তাঁরই রচনা।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ, নৃত্যনাট্য এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কবিগুরুর সাহিত্য ও দর্শনের মাধ্যমে মানবতা, আধ্যাত্মিকতা এবং সমাজসংস্কারের বার্তা তুলে ধরছে।

















