আগরতলা, ৯ মে : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি পাচারকারীর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন পাচারকারীর মৃত্যু বাংলাদেশের হাসপাতালে হয়েছে। বাকি দুইজনের মৃতদেহ ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সীমান্ত এলাকায়। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৩ জনের অধিক বলে জানা গেছে।
জানা গিয়েছে, গতকাল রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ সীমান্তের ১০১ নম্বর গেটের পাশ দিয়ে মাছের রেনু বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পাচারকারীদের ধরতে উৎপেতে ছিল পাথারিয়াদার বিএসএফ ক্যাম্পের ৪৯ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা।রেনুগুলি সীমান্ত পার হওয়ার পর বাংলাদেশের পাচারকারীরা সেগুলি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ তাদের আটকাতে যায়। সেই সময় পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর বিএসএফ পাম্প অ্যাকশন গান প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. মোরছালিন (২২)। সে শাহআলম ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। আরেকজন মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)। ওই ঘটনায় ২৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে আহতদের কুমিল্লায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিহত নবীর হোসেনের বাড়ি বাংলাদেশ মধুপুরের মানিক্যমোড়া এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মৃত মরম আলী। জানা গেছে, তাঁর বয়স প্রায় ৪৫ বছর এবং পরিবারে ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
এদিকে, নিহতের পরিবারের দাবি, রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মোরছালিন নিহত হন। পরে তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত অবস্থায় নবীর হোসেনকেও নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে, মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর বলেন, সীমান্তে গুলিতে দু’জন নিহত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন এবং নবীর হোসেনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
এদিকে, ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, রাতে কয়েকজন বয়ক্তি কাঁটাতারের সামনে গেলে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, একজন নিহত হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
তাছাড়া, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর প্রশাসনের কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আহতদের মধ্যে অনেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাসপাতাল এবং কুমিল্লা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউসুফ আলি নামে আরও এক যুবকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন অন্তত তিনজন।
ওই ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মধুপুর থানার ওসি সহ প্রশাসনের কর্তারা বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। মৃতদেহ দুটি ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।



















