তিরুবনন্তপুরম, ৮ মে (আইএএনএস): কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর ঐতিহাসিক জয়ের পর কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে শুরু হওয়া উদ্যাপনের পরিবেশ দ্রুতই তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে। তিনজন মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ এখন শুধু দলীয় বৈঠকে সীমাবদ্ধ না থেকে রাস্তায়, সামাজিক মাধ্যমে এবং জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে. সি. বেণুগোপালের নাম মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে উঠে আসার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতদিন মূল প্রতিযোগিতা ছিল ইউডিএফ নির্বাচনী প্রচারের মুখ ভি. ডি. সতীশন এবং প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথলার মধ্যে।
রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আলাপ্পুজা সাংসদ বেণুগোপালের হঠাৎ এই দৌড়ে প্রবেশ কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বদলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার কেরলের কান্নুর, ত্রিশূর, মালাপ্পুরম এবং তিরুবনন্তপুরমে ভি. ডি. সতীশনের সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। “সতীশনের ন্যায়বিচার চাই” স্লোগান তুলে তাঁরা দাবি জানান, যিনি নির্বাচনী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হোক।
রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে বিক্ষোভকারীদের বেণুগোপালের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতেও দেখা যায়, যা দলীয় বিভাজনের তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেরলে ইউডিএফ ১৪০ আসনের বিধানসভায় ১০২টি আসন জিতে বড় জয় পেলেও, এই সাফল্যের পরপরই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসা কংগ্রেসের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সমর্থকরা হোর্ডিং, ফ্লেক্স বোর্ড এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। এতে দলীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বেণুগোপালের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। দলের একাংশের অভিযোগ, তিনি রাজস্থানের রাজ্যসভা আসন ছেড়ে আলাপ্পুজা লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শেষ পর্যন্ত বিজেপির হাতে আসনটি চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। এছাড়া হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর দাবি দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করেছে বলেও অভিযোগ উঠছে।
অন্যদিকে, সতীশনের সমর্থনে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চলছে। অনেকেই মনে করছেন, যিনি বাম সরকারের বিরুদ্ধে ইউডিএফ-এর প্রচার নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁকে বাদ দিলে কর্মীদের মনোবলে প্রভাব পড়তে পারে।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এআইসিসি পর্যবেক্ষক অজয় মাকেন এবং মুকুল ওয়াসনিক কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। ৬৩ জন বিধায়ক, সিনিয়র নেতা এবং জোট শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, পর্যবেক্ষকরা কোনও একক নাম সুপারিশ করেননি, বরং পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর ছেড়ে দিয়েছেন।
এদিকে সতীশন নিজেই সামাজিক মাধ্যমে দলের কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ফ্লেক্স-ব্যানার রাজনীতি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ লড়াই এখন এক সংবেদনশীল ও অস্থির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যা ইউডিএফ-এর ঐতিহাসিক জয়কে ছাপিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।



















