নয়াদিল্লি, ৮ মে (আইএএনএস) : প্রায় ২২ বছর কারাবন্দি থাকার পর ওড়িশা-র এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে জামিনের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া। একই সঙ্গে প্রায় ন’ বছর দেরিতে আপিল দায়েরের কারণে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় ওড়িশা হাইকোর্ট-এর ভূমিকার কড়া সমালোচনাও করেছে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া-র ডিভিশন বেঞ্চ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করে জানায়, আদালতের উচিত ছিল বাস্তবসম্মত ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এবং অন্তত অভিযুক্তকে মামলার মূল বিষয় নিয়ে সওয়াল করার সুযোগ দেওয়া।
আর্জুন জানি ওরফে টুনটুন নামে ওই বন্দি সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অনুমতি পিটিশন দায়ের করেছিলেন। ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি ওড়িশা হাইকোর্ট তাঁর ফৌজদারি আপিল খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়েছিল, আপিল দায়েরে ৩,১৫৭ দিনের বিলম্ব হয়েছে এবং সেই দেরি মকুব করার মতো গ্রহণযোগ্য কারণ নেই।
নবরঙ্গপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে খুনের মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ এবং ২০১ ধারায় অভিযুক্ত সাব্যস্ত হয়ে ২০০৬ সালের ২৫ আগস্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান আর্জুন জানি।
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আপিল দায়েরের সময়ই ওই ব্যক্তি ১২ বছরের বেশি সময় কারাভোগ করেছিলেন। তাছাড়া এটি ছিল জেল থেকেই দায়ের করা আপিল। সেই কারণে হাইকোর্টের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।
শীর্ষ আদালত আরও জানায়, অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই প্রায় ২২ বছর জেল খেটেছেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে একবারও প্যারোল বা ফার্লো পাননি। কোরাপুট সার্কেল জেলের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্টের দেওয়া রিপোর্টে তাঁর আচরণ সন্তোষজনক বলেও উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়। ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি কোরাপুট জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে তাঁর সাজা মকুবের আবেদন তৈরিতে সহায়তা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
আগামী ২৮ মে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।



















