ঢাকা, ৮ মে (আইএএনএস): বাংলাদেশে চলতি বছর নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ। দলের দাবি, ২০২৫ সালে আশঙ্কাজনক হারে এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির পর চলতি বছরও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ, দেশের নারী ও শিশুরা এখন সর্বক্ষণ আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরের ভিতরে হোক বা বাইরে, কোথাওই নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়।
দলের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং সেই সংক্রান্ত খুনের ঘটনা সামনে আসছে।
আওয়ামী লীগের মতে, এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং জাতীয় সঙ্কটের ইঙ্গিত। দলটি অভিযোগ করেছে যে তারিক রহমান-নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার সুশাসনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
দলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বর্তমান সরকার কঠোর সতর্কবার্তা ও ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলেই চলেছে। কিন্তু শোকাহত মায়েরা এবং মানসিকভাবে বিধ্বস্ত শিশুদের কাছে এই কথাগুলির আর কোনও মূল্য নেই। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব যদি সবচেয়ে অসহায় নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া হয়, তাহলে বিএনপি সরকার শুধু ব্যর্থই নয়, তারা সামাজিক শৃঙ্খলার ভেঙে পড়ার পরিস্থিতির তদারকি করছে।”
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগ প্রশ্ন তুলেছে, “যদি কোনও শিশু স্কুলে যাওয়ার পথেও নিরাপদ না থাকে, তাহলে আদৌ সরকার কোথায়?”
ঢাকা-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (এএসকে)-র তথ্য উদ্ধৃত করে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই ৩৫টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি গণধর্ষণের মামলা। আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স ছিল ১২ বছরের কম। একই সময়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ৩১টি ঘটনার নথিভুক্তির কথা জানিয়েছে।
এএসকে-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুর আগের প্রায় ১৩ মাসে মোট ৭৭৬টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই নাবালিকাদের সঙ্গে ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও এমন বহু ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
আওয়ামী লীগের দাবি, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল শিশুদের ক্রমবর্ধমানভাবে লক্ষ্যবস্তু করা। দলের বক্তব্য, “২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকারদের প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল ১৮ বছরের কম বয়সি কিশোরী। এটি শুধুমাত্র অপরাধের ঢেউ নয়, সমাজের নৈতিক ও আইনি কাঠামোর মৌলিক ভাঙনের ইঙ্গিত।”
মানবাধিকার সংগঠনগুলির রিপোর্ট উদ্ধৃত করে দলটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দিকে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তির অভাবই এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, “এটি আর শুধুমাত্র নারীদের সমস্যা নয়। এটি এখন শাসনব্যবস্থা, বিচার এবং জাতীয় চরিত্রের সঙ্কট। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, সংবাদমাধ্যম, দাতা সংস্থা এবং বিশ্ব প্রতিষ্ঠানগুলির উচিত এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং জবাবদিহি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করা।”



















