নয়াদিল্লি, ৮ মে(আইএএনএস) : স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব সরকার গঠিত হলে পশ্চিমবঙ্গ ফের দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে দাবি করল কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (কাইট)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সরকার গঠিত হলে রাজ্যের উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও মত সংগঠনের।
শুক্রবার কাইটের সাধারণ সম্পাদক তথা বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খাণ্ডেলওয়াল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলে এখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
তার দাবি, গত ১৫ বছরে নীতিগত অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব, শিল্পের অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া, সিন্ডিকেট সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক চাপের কারণে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
খাণ্ডেলওয়াল বলেন, “একসময় দেশের অন্যতম শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ আজ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।”
তার অভিযোগ, গত এক দশকে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ইউনিট হয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে, নয়তো অন্য রাজ্যে ব্যবসা সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, কারিগর, ছোট শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাগুলিও পর্যাপ্ত নীতিগত সহায়তা পায়নি।
তিনি আরও বলেন, চা, পাট, তাঁত, চামড়া শিল্প, মিষ্টি শিল্প-সহ বহু ক্ষুদ্র ব্যবসা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, জটিল নিয়মকানুন এবং পরিকাঠামোগত ঘাটতির কারণে সমস্যার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ছানাভিত্তিক মিষ্টির উপর জিএসটি আরোপ বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি শিল্পে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, কাইটের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান তথা পশ্চিমবঙ্গের শিল্পপতি সুভাষ আগরওয়ালা বলেন, ‘ভোকাল ফর লোকাল’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ এবং ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এর মতো উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা হলে পশ্চিমবঙ্গ ফের শিল্পক্ষেত্রে নিজেদের পুরনো অবস্থান ফিরে পেতে পারে।
তিনি জানান, রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পমহল বিনিয়োগবান্ধব শিল্পনীতি, বিদ্যুৎ শুল্কে ছাড়, সহজ নিয়মকানুন, সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য আরও শক্তিশালী সহায়তা প্রত্যাশা করছে। পাশাপাশি উন্নত লজিস্টিক পরিকাঠামো, শিল্প করিডর এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও কারিগরদের জন্য নীতিগত সুরক্ষার দাবিও জানান তিনি।
কাইটের জাতীয় সভাপতি বি.সি. ভারতিয়া বলেন, উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব এবং শক্তিশালী প্রশাসন পশ্চিমবঙ্গকে আবারও বাণিজ্য, রপ্তানি, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।
প্রবীণ খাণ্ডেলওয়াল বলেন, “এখন সময় বাংলার উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার, শিল্পকে নতুন গতি দেওয়ার এবং রাজ্যকে আবারও উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার।”



















