গান্ধীনগর, ৮ মে (আইএএনএস): রাম মোহন নাইডু শুক্রবার জানিয়েছেন, এয়ার ইন্ডিয়া-র আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট সম্ভবত আগামী এক মাসের মধ্যেই প্রকাশিত হবে। তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে তা পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গিফট সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া এয়ারক্রাফট লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং সামিট ২.০’-তে অংশগ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী জানান যে, ‘এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’-এর নেতৃত্বে একাধিক সংস্থা এই তদন্তে যুক্ত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “তদন্ত সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে চলছে এবং এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যেহেতু এটি একটি আন্তর্জাতিক উড়ান ছিল, তাই যে কোনও দেশ রিপোর্টটি খতিয়ে দেখতে পারে।”
তিনি আরও জানান, তদন্তকারী সংস্থা এএআইবি-কে কেন্দ্র সরকার সবরকম সহায়তা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়াকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই সর্দার বল্লভভাই পটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন মেঘানিনগর এলাকায় ভেঙে পড়ে। বিমানটি আবাসিক ভবন ও একটি হস্টেল কমপ্লেক্সের উপর আছড়ে পড়ে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন যাত্রী, বিমানের কর্মী এবং মাটিতে থাকা সাধারণ মানুষও। বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে মাত্র একজন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। বিমানে ২৩০ জন যাত্রী, দুই পাইলট এবং ১০ জন কেবিন ক্রু ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর এএআইবি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছিল, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানের ইঞ্জিনে শক্তি কমে গিয়েছিল। এরপর থেকেই তদন্তকারীরা ইঞ্জিন ব্যবস্থা এবং ককপিট পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে বিশদে পরীক্ষা শুরু করেন।
ঘটনার পর ভারতে চলাচলকারী বোয়িং ৭৮৭ বিমানের উপর অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কড়া নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়।
……



















